বিশ্বের মুসলিম ভাইদের প্রতি আকুল আবেদন। ইসরাইলিদের ভূমির দাবী ত্যাগ করুন, বিশ্বে শান্তি আসুক। 

বিশ্বে সবচেয়ে বড় অশান্তির কারণ ইসরাইল-ফিলিস্তিন সমস্যা। এ বিষয়ক সকল কাগজপত্র পর্যালোচনা করে দেখলাম, বর্তমান ইসরাইলের ভূমিটির মালিকানা পুরোপুরি ইহুদিদের। জমি সংক্রান্ত কোন মামলায় আদালত বিবেচনা করে ঐ জমির পুরনো রেকর্ডপত্র! প্রায় সাড়ে তিন হাজার বছরের “কিনান” ভূমির RS, CS, SA এবং BS (বর্তমানে কার দখলে আছে) জরিপের “খতিয়ান, পর্চা ও খাজনার তলবানা” পর্যবেক্ষণে দেখা যাচ্ছে, এ ভূমির পুরোটারই মালিক ইসরাইল জাতি। কেবল মাঝে মুসলমানরা ও পরবর্তীতে বৃটিশরা কিছুদিন এর “দখলে” ছিল। কিন্তু এমন অবৈধ দখলেই কারো মালিকানা হয়ে যায়না। মিসর থেকে ফেরার পথে সিনাই পর্বতে আল্লাহ স্বয়ং এ ভূমি দান করেছেন ইসরাইলিদের এবং সেখানে বসবাসেরও নির্দেশ দিয়েছেন। যা Jews-দের ধর্মীয় কিতাব তাওরাতে বলা হয়েছে। কিন্তু কোরান-হাদিসের কোথাও বলা হয়নি, প্রাক্তন “কিনান” তথা বর্তমান “ইসরাইল” ভূমিতে মুসলমানদের কোন অধিকার আছে, বা সেখানে মুসলমানরা বসবাস করবে। জীবিতকালে ও মৃত্যুর সময়ও রাসুল্লালাহ (স) বলেছিলেন, “আরব উপদ্বীপ (জাজিরাতুল আরব) থেকে ইহুদি নাসারাদের বহিস্কার করতে”। কিন্তু কিনান ভূমিতে ইহুদিরা থাকতে পারবেনা, বা বসবাস করতে পারবে না সেটা হাদিস কোরানের কোথাও নেই বা নবী (স) কখনো বলেননি। যেটা বুঝতে পেরেছে – সৌদি আরব, কুয়েত, মিসর, আলজিরিয়া, বাহরাইন, আমিরাতসহ বেশ কটি মুসলিম রাষ্ট্র! তাই তারা ইসরাইলের সাথে মৈত্রি বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছে।

সুতরাং দেখা যাচ্ছে, ইহুদিদের তাওরাতে বর্ণিত তাদের রেকর্ড ও খতিয়ানভুক্ত পবিত্রভূমি “কিনান” তথা বর্তমান ইসরাইল মুসলমানদের অন্যায়ভাবে দাবীর কারণেই সেখানে রক্তপাত হচ্ছে। মুসলমানরা ঐ ভূমির প্রতি অন্যায্য দাবী পরিত্যাগ করলে, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা কেবল সময়ের ব্যাপার মাত্র। চিন্তা করে দেখুন, মদিনার প্রায় ৯০% লোক ছিল ইহুদি। কারা সেখান থেকে তাদের হত্যা আর উচ্ছেদ করলো? এখন যদি শক্তির দাপটে ইসরাইল তাদের পুরনো পৈত্রিক ভূমি মদিনা, খায়বর, ফদখ, তাইমা, বানু লিহায়েন, বানু আল মুসতালিক, ওয়াদি আল কুরা ও নাটার ইহুদি দুর্গ ফেরত বা দখল করতে চায়? তাহলে কি মুসলমানদের শক্তি আছে তা প্রতিহত করার? তাই মুসলমান ভাইদের অনুরোধ, ভাই মানুষে মানুষে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য ইহুদিদের আল্লাহ থেকে প্রদানকৃত ও প্রাপ্ত জমির দাবী ত্যাগ করুন! তাদের সাথে মৈত্রি বন্ধনে আবদ্ধ হোন ও মানুষে মানুষে শান্তি প্রতিষ্ঠা হোক! ফিলিস্তিনিদের শান্তিতে বসবাস করতে দিন। হামাসের মত “মাথামোটা” নেতাদের কথামত চলে, ফিলিস্তিনি নারী-শিশুসহ আর করো মানুষ মরতে দেবেন। ইসলাম যেহেতু শান্তির ধর্ম, তাই শান্তিচুক্তি করুন। যুদ্ধ আর মৃত্যু বন্ধ হোক!

 

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *