যিশুর জন্ম বিতর্ক ! তার পিতা কি ZECHARIAH

বিশ্বের প্রচলিত ধর্ম কাহিনি এই যে, ভার্জিন মেরি পিতা ছাড়াই ঈশ্বরের কৃপায় গর্ভবতী হন ও যিশুকে জন্ম দেন। সে হিসেবে মাদার মেরি কুমারি মাতা। খৃস্টান ও ইসলাম ধর্মে এ কাহিনির স্বীকৃতি থাকলেও, ইহুদিদের বিশাল এক অংশ এ কাহিনিকে বানানো ও মিথ্যে মনে করে। পিতা ছাড়া যেহেতু সন্তান জন্ম দেয়া অসম্ভব, তাই তাদের মতে আসলে প্রকৃত ঘটনাটা নিম্নরূপ।

প্রফেট ZECHARIAH যাকে মুসলমানরা জাকারিয়া নামে জানে। হিব্রু উচ্চারণে যা অনেকটা “সখরিয়া”র মত। এই প্রফেট “সখরিয়া” ছিলেন ইহুদিয়া রাজ্যের জেরুজালেমের ‘টেম্পল অফ সলোমন’ তথা বাইতুল মুকাদ্দাসের প্রধান ইমাম (রাব্বি) এবং কুমারি মেরির খালু। “সখরিয়া” ছিলেন বৃদ্ধ ও নিঃসন্তান। তাঁর স্ত্রী ছিল এলিজাবেথ, সেও ছিল বন্ধ্যা। মেরি ছিল এলিজাবেথের কাজিন/বোনের মেয়ে। মেরি সখরিয়া ও এলিজাবেথের ঘরে থাকতো এবং টেম্পল অফ সলোমনে খালু সখরিয়ার সাথে ঈশ্বরের উপাসনা ও মন্দিরের সেবা করতো।

একদিন মেরী গর্ভবতী হলে মেরী নিজেই প্রচার করতে থাকলো যে, শিশুটি ঈশ্বরের, সে নিজে ১০০% ভার্জিন। এ ব্যাপারে ‘টেম্পল অফ সলোমনের’ প্রধান ইমাম (রাব্বি) তথা কুমারি মেরির রক্ষক হিসেবে জিজ্ঞাসিত হলে, সখরিয়া কোন কথাই বলেননি। সখরিয়া ইশারায় প্রচার করেন যে, ঈশ্বরের কথায় সন্দেহ প্রকাশ করার কারণে, সাময়িক সময়ের জন্য ঈশ্বর তাকে ‘বোবা’ বানিয়ে শাস্তি দিয়েছেন। সুতরাং ঘটনার ব্যাপারে সখরিয়া বোবা তথা নিশ্চুপ থাকেন।

বিবাহ বহির্ভুত যৌনতায় ইহুদি সমাজেও পাথর মেরে হত্যার মত শাস্তি তখন বহাল ছিল। মেরি তথা যিশুর বংশধরেরা ছিলেন ক্ষমতাবান ধর্মপ্রচারক ও রাজবংশীয়। মেরীর সাথে যোসেফের বিয়ে যখন ঠিকঠাক, তখনি মেরীর গর্ভে সন্তান এলো। এ সময় ইহুদিদের বিরাট অংশ মনে করতে থাকে, মেরী’র সাথে কোন পুরুষের বিবাহ বহির্ভূত যৌন সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছে, যার ফলে মেরির গর্ভে সন্তান আসে। সে পুরুষটি অবশ্যই হবে সখরিয়া। সখরিয়ার স্ত্রী এলিজাবেথও সেক্সের এ ঘটনাটি জেনে যায়, তবে সম্ভবত স্বামী ও পরিবারের সম্মানের কারণে বিষয়টা মেনে নেয় সে। ক্ষমতাশালী পরিবার হওয়ায় ব্যাপারটা ইশ্বরের ইচ্ছা বলে চালিয়ে দিয়ে মেরী-সখরিয়াসহ তাদের পরিবার পার পেয়ে গিয়েছিলো প্রায়। কারণ মেরীর পিতা Joachim, খালা/বোন এলিজাবেথ ও খালু/বোন জামাই সখরিয়া সবাই সমাজে প্রভাবশালী ধর্ম প্রচারক ছিলেন।

ঐ সময় এলাকার প্রটেস্টান্ট ইহুদিরা এ বিষয়ে প্রবল আপত্তি তুললে, পরদিন ‘টেম্পল অফ সলোমন’ প্রাঙ্গনে সখরিয়া ও মেরির বিষয়টার একটা মিমাংসা তথা বিচারের জন্য চাপ সৃষ্টি হলে, রাতেই মেরি তার বাগদত্তা যোসেফের সাথে পালিয়ে বেথেলহেমে চলে যান। যুক্তিবাদি ইহুদিরা মনে করে, মেরির দাবী সত্যি হলে সে পালাতো না, বরং গড জনসমক্ষে তার সন্তানের পরিচয় তুলে ধরতো। কারণ ঐ সময় সব ঘটনায় গ্যাব্রিয়েল হাজির হতো। এমনকি সমাজ বহির্ভুত এ শিশু যখন জন্ম নিলো, তখন গোয়ালঘরে ও বেথেলহেমের নাজারেথে পিতাহীন এ শিশুর স্থানও হলোনা কোথাও। কিন্তু মেরি যোসেফের সহায়তায় পালাতে পারলেও, বুড়ো বয়স কিংবা কোন অজানা কারণে প্রফেট সখরিয়া পালাতে পারেননি কিংবা পালাতে গিয়ে রাতে ধরা পরে ইহুদিদের হাতে। এ অপরাধে দোষী মনে করে ইহুদিরা হত্যা করে প্রফেট সখরিয়াকে তাদের পবিত্র উপাসনালয়ের পশ্চিম ওয়ালের সন্নিকটে। যার স্বীকৃতি ইসলামেও রয়েছে। ইসলামে প্রফেট জাকারিয়াকে করাত দিয় দ্বিখন্ডিত করার কথা বলা হয়েছে বিভিন্ন সূত্রে। কোন কোন আধুনিক যুক্তিবাদী খৃস্টানও বিশ্বাস করে যে, ইহুদিদের কথিত বিশ্বাস যৌক্তিক, সম্ভবত সখরিয়াই হচ্ছে যিশুর প্রকৃত পিতা।

যদিও মেরিকে সবচেয়ে নিখুঁত নারী হিসেবেই খৃস্ট ধর্মাবলম্বীরা মানে ও শ্রদ্ধা করে। ইসলাম ধর্মের ধর্মগ্রন্থ কোরআনেও মেরীকে একমাত্র নিখুঁত নারী বলা হয়েছে। ইসলামের প্রফেট মুহম্মদ নিজেকে প্রফেট ঈসার উত্তরসূরি দাবী করার কারণে, সম্ভবত খৃষ্ট ধর্মের দাবীর সত্যতা স্বীকার করেছিলেন, খৃস্টানরা যেন তাকে তাদের উত্তরসুরি প্রফেট হিসেবে মেনে নেয় অকপটে। যদিও খৃস্টানরা কখনো প্রফেট মুহাম্মদকে প্রফেট হিসেবে অদ্যাবধি স্বীকার করেনি। প্রফেট ঈসাও যেমন নিজেকে মসীহ দাবী করলেও, ইহুদিদের স্বীকৃতি পাননি এ প্রফেট অদ্যাবধি।

সুতরাং যিশুর জন্ম সম্পর্কে খৃস্টান ও মুসলমানদের বিশ্বাস থেকে বিশাল একটা ইহুদি গোষ্ঠীর বিশ্বাস সম্পূর্ণ আলাদা ও বেশ যৌক্তিক তথা বস্তুবাদি। এ প্রবন্ধের তথ্য সংগ্রহে নিচের সূত্রের সাহায্য নেয়া হয়েছে, যার মূল ইংরেজির কিছু অংশ তুলে দেয়া হলো।

[“Elizabeth also showed her good heart in the way she supported Zechariah. She knew what happened to Mary and Zechariah, but she absolutely and unconditionally supported them. Putting these statements together we can see that the Unification Church teaches that something happened between Mary and Zechariah, that John the Baptist was Jesus’ older brother, that Jesus was illegitimate and that Zechariah was his father”! (The Victory of Love, New York, NY:The Holy Spirit Association for the Unification of World Christianity, 1992, p. 210.) ; “Who was Jesus’ father? Christians say that Jesus was born to a virgin. Without man is it possible to conceive? [Impossible.] Who is Jesus’ father? [Zechariah.] Who taught that? [You did.] Several times in six months I said that. Who is Jesus’ father? Zechariah.” (Sun Myung Moon, “Declaration of Return to the Home Country,” speech given August 1, 1993 at Tarrytown, New York, translated by Sang Kil Han, from the Unification Church member magazine Today’s World, October 1993, p.9.);

http://www.newcovpublications.com/unification/howwas.html

http://www.panoccitania.com/zacharias2.html

http://www.newworldencyclopedia.org/entry/Zechariah

https://thewordsmithblog.com/its-gonna-happen-anyway-the-l…/]

 

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *