বহুগামিতা!

একাধিক বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন এবং একাধিক অবৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপনের ক্ষেত্রে বহুগামিতা শব্দটি প্রযোজ্য।বহুগামিতা শব্দটি আমাদের সংস্কৃতির সঙ্গে বহু আগে থেকেই জড়িত এবং সেটি পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থার একটি নিয়ম মাত্র। কিন্তু বর্তমানে প্রেক্ষাপট একটু ভিন্ন ভাবে উপস্থাপন হতে চলেছে যেমন একটা সময় পার হয়ে এসেছে আমাদের সংস্কৃতিতে যেপুরুষরা বহু স্ত্রী গ্রহণ করত এবং সেখানে স্ত্রীদেরও অধিকার ছিল খুব নগণ্য।কিন্তু বর্তমানেও দেখা যাচ্ছে নারীরাও বহু একাধিক স্বামী এবং অবৈবাহিক একাধিক সম্পর্কে জড়িত হচ্ছে।নারী এবং পুরুষ এই ক্ষেত্রে সমান ভাগে অংশীদারিত্ব গ্রহণ করেছে, আমরা ভারত বর্ষ তথা বাঙালিরা মৌখিকভাবে বহুগামিতা প্রকাশ না করলেও সাংস্কৃতিক ভাবে আমরা বহুগামী।

এবং স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই বহুগামী তাকে আমন্ত্রণ করছি।ভারতবর্ষে যে কঠিন ধর্মের উদ্ভব হয়েছে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বহুগামিতা কে প্রাধান্য দিয়ে এসেছে ধর্মযাজকরা।এবং নিজেদের অঙ্গনে যেভাবে উপস্থাপন করা দরকার সেটাই করেছে তারা। ইতিহাস ঘাটলে বহু উদাহরণ দিতে পারব এই বহুগামিতার।তাই আমি মাঝে মাঝে  একটা কথা উপস্থাপন করি “Polygamy has been ingrained into a culture of pluralism for thousands of years, to represent a particular society system in a humorous way for women.”

একজন নারী বহুগামিতায় লিপ্ত হলে পুরুষতান্ত্রিক সমাজের নিগ্রহের দৃষ্টির কখনো অভাব হয় না এবং সেটা সবসময় ওতপ্রোতভাবে ছড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করে, এবং সামাজিকভাবে ওই মেয়েটিকে রুদ্ধ করার চেষ্টা করা হয় কারণ তারা চিন্তা করে সমাজটা তাদের হাতে এখানে নারী শুধু ভগবান, মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই পৃথিবীতে সম মাত্রায় অংশীদারিত্ব গ্রহণ করার অধিকার নারীদের রয়েছে তাই পুরুষ যদি বহুগামিতা লিপ্ত হয় তাহলে নারী তাদের দেখে শিখছে, পুরুষ যদি তার স্থায়িত্ব অণঢ় থাকতো নারী কখনো বহুগামিতায় লিপ্ত হওয়ার সাহস পেত না।

মানবজমিনে বহুগামিতা নিয়ে একটি প্রতিবেদন করা হয়েছিল,সেখান থেকে উঠে এসেছিল শারীরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বহুগামিতা খুব ঝুঁকিপূর্ণ,১০ জনের বেশি মানুষের সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপনে ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। নারীদের ক্ষেত্রে এ ঝুঁকি বেশি। তারা দীর্ঘমেয়াদী সমস্যার সম্মুখীন হওয়ার ঝুঁকিতে থাকেন। নতুন এক গবেষণায় এ তথ্য বেরিয়ে এসেছে। বৃটেন, অস্ট্রিয়া, তুরস্ক, কানাডা ও ইতালির বিশেষজ্ঞরা এ গবেষণা করেছেন। গবেষণায় ইংলিশ লঙ্গিটিউডিনাল স্টাডি অব এজিং (এলসা) এর তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন তারা। এতে ইংল্যান্ডজুড়ে ৫০ বছর ও তার বেশি বয়সী মানুষদের তথ্য নিয়ে এ গবেষণা করা হয়।


বহুগামিতা নিয়ে ধর্মীয় অবস্থানের ব্যাপারে একটু কথা বলা যাক:কোরানের ৪ঃ১২৪ এ বলা হয়েছে,
“নারী কিংবা পুরুষ নির্বিশেষে যেকোন বিশ্বাসী ব্যক্তি তার সঠিক কর্মের জন্য স্বর্গে প্রবেশ করবে এবং, তাঁদের প্রতি কোন ধরনের অবিচার করা হবে না।”কোরআনে এ ধরনের কথা বর্ণনা থাকলেও কুরআন যার উপরে নাযিল করা হয়েছিল সেই মোহাম্মদ এই বহুগামিতায় অংশগ্রহণ করেছিল স্বতঃস্ফূর্তভাবে। এবং ধর্মীয় প্রভাব খাটিয়ে নিজের মতো করে ব্যবহার করেছে তার জীবদ্দশায়।মোহাম্মদ ২৫ বছর শুধুমাত্র তার প্রথম স্ত্রী খাদিজার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ ছিলেন। খাদিজার মৃত্যুর পর তিনি আরো চৌদ্দটি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন এবং তার অন্তত চার জন উপপত্নী ছিল ।[৩৯] সহিহ বুখারীর ৭ঃ৬২ঃ১৪২ এ উল্লেখ আছে,


ইহুদীদের ‘দ্যা বুক অব জেনেসিসে’ বর্ণিত অনেক জটিলতাকে সাধারণ মানুষের বোধগম্য করার চেষ্টা দেখা যায় মিদ্রাশ সাহিত্য। জেনেসিসের মিদ্রাশ সংস্করণে (জেনেসিস রাব্বাহ) লিলিথকে রূপ দেয়া হয়েছিল অশুভ আত্মা থেকে একটা গ্রহণযোগ্য চরিত্রে। এখানে দাবি করা হয়, ইভেরও আগে আদমের প্রথম স্ত্রী ছিল লিলিথ। জেনেসিসে বর্ণিত দুইটি সৃষ্টিতত্ত্বের উপর ভিত্তি করে এই ব্যাখ্যা দেয়া হয়। জেনেসিস : ১-এ বলা আছে নারী এবং পুরুষ উভয়ই একই সময়ে তৈরি, কিন্তু জেনেসিস : ২-এ বলা আছে, ইভের আগে তৈরি হয় আদম। জেনেসিসের মিদ্রাশ সংস্করণে বলা হয়, আদি সৃষ্টির এই দুই গল্প আসলে ভিন্ন। প্রথম গল্পে আদমের স্ত্রীকে একই সময়ে মাটি দিয়ে তৈরি করা হয় সমানভাবে। কিন্তু কোনো একটা কারণে তাদের সেই বিয়ে টেকেনি। কাজেই সৃষ্টিকর্তা আদমের জন্য আবার তৈরি করলেন দ্বিতীয় স্ত্রী ইভকে।অর্থাৎ সৃষ্টির শুরুতেই পুরুষের তথাকথিত ‘সহজাত’ বহুগামিতা ও বহুবিবাহ অনুমোদিত।

মহাভারতে দেখতে পাই, অতি প্রাচীনকালে ‘বিবাহ’ নামক প্রথা ছিল না। পুরুষ এবং নারী যথেচ্ছ কামাচারে লিপ্ত হত। বহু পুরুষে নারী আবদ্ধ হলে বা অনেক নারীতে পুরুষ উপগত হলে তা নিন্দার ছিল না! স্বৈরাচারই ছিল সেই যুগের ধর্ম। পশুপাখিরাও এমন স্বৈরাচারে অভ্যস্ত। তারা সেই প্রাচীন পদ্ধতির বিন্দুমাত্র পরিবর্তন করেনি। এমনকী মহাভারতের সময় উত্তরকুরুতে এই স্বৈরাচার বিদ্যমান ছিল। ……….
…….শূদ্র যদি বলপূর্বক ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয় ও বৈশ্যের স্ত্রীতে উপগত হয় এবং তার সঙ্গমে যদি পুত্রসন্তান না জন্মায়, তাহলে ওই স্ত্রী প্রায়শ্চিত্তের দ্বারা শুদ্ধ হতে পারেন। অন্যদের এই শুদ্ধির ব্যবস্থা নেই। তবে এ সবই শ্বেতকেতুকর্তৃক বিবাহমর্যাদা প্রতিষ্ঠার পরবর্তী অনুশাসন।……..
দ্রৌপদীকে যখন বিচারালয়ে আনা হয়েছিল তখন তার পাঁচ স্বামীর বিবরণ দিতে গিয়ে তিনি বলেছিলেন, যজ্ঞের সঙ্গি হিসেবে চারজনকে গ্রহণ করলাম আর আপনারা আমাকে জুয়ার আসরে দাসী বানিয়ে ছাড়লেন?যুধিষ্ঠির, ভীম, অর্জুন, নকুল ও সহদেব এই পঞ্চপান্ডবরাই দ্রৌপদীর স্বামী ছিল, এবং ইতিহাসের এদেরকেই প্রথম গ্রুপ সেক্সের জন্য দায়ী করা হয়।আবার অন্যদিকে বহুগামিতা নিদর্শন হিসেবে কৃষ্ণের কথা বহুগামিতা কথা শেষ করা যাবে না।


প্রত্যেকটা ধর্মেই বহুগামিতাকে ইতিবাচকভাবে তুলে ধরা হয়েছিল যা বর্তমানে সচল আছে। এবং কি আজ পর্যন্ত ধর্মীয় অনুশাসন কে কেন্দ্র করে টিকে আছে।বহুগামিতা একটি সামাজিক ব্যাধি এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া উচিত।

ধন্যবাদ

সাদ্দাম হোসাইন

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *