মুসলিম না ধর্মনিরপেক্ষ!

–বাংলাদেশ কি ইসলামিক রাষ্ট্র?

—না!

—যে দেশে ৯০% মুসলমানের বসবাস– যে দেশে ইসলামী জ্ঞানার্জনের জন্য ৫৫ হাজার মাদ্রাসা আছে– যে দেশে ধর্মতত্ত্ব ও ইসলামী আইনের উপর স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি প্রদানের জন্য ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় আছে– যে দেশে আল্লাহর উপাসনার জন্য ২ লাখ ৫০ হাজার ৩’শ মসজিদ রয়েছে– যে দেশের রাজধানীতে ৫ হাজার ৩’শ ৯৯টি মসজিদ রয়েছে– যে দেশের রাজধানীকে মসজিদের শহর বলা হয়– যে দেশের সংবিধান শুরু হইছে ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম’ দিয়ে– যে দেশের সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম– যে দেশের প্রধানমন্ত্রী একজন মুসলিম— সে দেশ কেনো ইসলামিক রাষ্ট্র নয়?

—যে দেশের সংবিধানে বলা হইছে “সকল ক্ষমতার উৎস জনগণ”, অথচ পবিত্র কোরআনে বলা হইছে ” সকল ক্ষমতার উৎস আল্লাহ[বাকারা/১৬৫]”,সে দেশ ইসলামিক রাষ্ট্র হয় কি করে?

—যে দেশের সংবিধানে বলা হইছে “সার্বভৌমত্বের মালিক জনগণ”, অথচ;কোরআনে উল্লেখ আছে ” সার্বভৌমত্বের মালিক আল্লাহ[ইমরান/২৬]”,সে দেশ ইসলামিক রাষ্ট্র–এটা কোন মুখে বলি?

—“বিধান দেওয়ার ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহর[ইউসুফ/৪০]”,অথচ;রাষ্ট্রের যেকোনো বিধান বা আইন তৈরী করে এমপি,মন্ত্রী ও সংসদ অর্থাৎ মানুষের বিধানে যে রাষ্ট্র পরিচালিত হয়, সে দেশকে কি করে ইসলামিক রাষ্ট্র বলা যায়

—যে দেশের রাষ্ট্র পরিচালনার মধ্যে গণতন্ত্র থাকে এবং গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সংখ্যা গরিষ্ঠতার মাধ্যমে সরকার নির্বাচিত হয়,সে দেশকে কিভাবে ইসলামিক রাষ্ট্র বলা যেতে পারে?অথচ, আল্লাহ বলেছেন, “অধিকাংশের রায় চুরান্ত নয়[আন আম/১২৬]!”

—যে দেশের রাষ্ট্র পরিচালকরা বলে,”আমরা সাম্প্রদায়িকতা চাইনা,ধর্ম যাঁর যাঁর উৎসব সবার, ধর্ম যাঁর যাঁর বাংলাদেশ সবার,আমরা হিন্দু-মুসলিম-ইহুদি-খ্রিষ্টান ভাই ভাই,”অথচ;আল্লাহ ঘোষণা দিয়েছেন,”ইহুদী-খ্রিষ্টানদের সাথে বন্ধুত্ব করা যাবে না[মায়েদা/৫১]”,সে দেশকে কি সত্যি ইসলামিক রাষ্ট্র ভাবা যায়?

—যে দেশের আইন মদের লাইসেন্স দেয়- যে দেশে হরদম জুয়া চলে- যে দেশে খোলামেলা লটারি চলে- যে দেশে সরাসরি প্রতিমাপুজা হয়– সে দেশকে কোনোভাবেই ইসলামিক রাষ্ট্র বলা যায় না,কারন;আল্লাহ এগুলোকে হারাম করেছেন[বাকারা/২১৯,মায়েদা/৯০-৯১]।

—বিবাহ ছাড়া যেকোনো যৌনতৃপ্তিকে যিনা বা ব্যভিচার বলে;আর ব্যভিচার করা দন্ডনীয় অপরাধ[আনআম/১৫১]।অথচ;যে দেশে বেশ্যাবৃত্তি করার জন্য খোলামেলা পতিতালয় গড়ে উঠে এবং পতিতাদের লাইসেন্স দেওয়া হয়,সে দেশকে ইসলামিক রাষ্ট্র বলা হাস্যকর,তাই নয় কি?

—যে দেশে পহেলা বৈশাখী মেলার নামে মঙ্গল শোভাযাত্রা করা হয় ও মহিলারা পর্দাহীন হইয়া নাচগানের আসর জমায়, সে দেশ কিভাবে ইসলামিক রাষ্ট্র হয়?অথচ;আল্লাহ বারবার পর্দার হুকুম জারি করেছেন[আহযাব/৫৯,নুর/৩১,আরাফ/২৬]!

—শুনেছি, হাদিসে বলা হইছে সুদ খাওয়া আর মায়ের সাথে যিনা করা সমান;হাদিসটির দলিল জানা নাই;তবে,আল্লাহ স্পষ্ট সুদ খাওয়াকে কোরআনে হারাম করেছেন[বাকারা/২৭৫-২৭৯,ইমরান/১৩০]।অথচ;যে দেশে সুদভিত্তিক অর্থনীতি চালু আছে, সে দেশকে ইসলামিক রাষ্ট্র বলা আর কোরআনের বিরোধিতা করা সমান,তাই নয় কি?

—বহুবিবাহকে আল্লাহ বৈধ করেছেন[নিসা/৩]বহুবিবাহকে আল্লাহ বৈধ করেছেন,আর এটাকে রাষ্ট্র যখণ অবৈধ ঘোষণা করে, তখন এদেশ ইসলামিক রাষ্ট্র থাকে কি করে?

—-হযরত মুহাম্মাদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিবি আয়শাকে ৬ বছর বয়সে বিবাহ করেছেন,৯ বছর বয়সে ঘরে তুলেছেন[বুখারী/৭ম খন্ড-৬৪,৫ম খন্ড-২৩৪];অথচ,যে দেশের আইনে ১৮ বছরের নিচে মেয়েকে বিবাহ দেওয়া যাবে না বলে আইন পাস হয়,সে দেশ কি এখনো ইসলামিক রাষ্ট্র আছে?এটা রাসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিরোধিতা নয়?

—পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ কিতাবে আল্লাহ পাক খেলাধুলা সম্পর্কে সতর্ক করেছেন[দুখান/৩৮-৩৯,আম্বিয়া/১৬-১৭,হিজর/৮৫]।অথচ ;কোরআনকে উপেক্ষা করে যে রাষ্ট্র ক্রিকেট খেলা ও ফুটবল খেলার পিছনে অর্থ ব্যয় করে,সে দেশ বিধর্মীদের দেশ –এটাই কি সত্য নয়?

—গ্রামে,গঞ্জে,হাটে,বাজারে, রাস্তা, ঘাটে,ক্লাবে, থিয়েটারে ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে গানবাজনা হয়;উলঙ্গ হয়ে নর্তকীরা নাচে আর গায়,সে দেশকে ইসলামিক রাষ্ট্র বললে হতবাক না হয়ে কি পারা যায়?অথচ;আল্লাহর রাসুল গানবাজনা হারাম করেছেন[বুখারী/৫৫৯০,তিরমিযী/৩৬৯০]!

—যে দেশে নারীর সমান অধিকার আদায়ের জন্য আন্দোলন করে, সে দেশকে ইসলামিক রাষ্ট্র বললে চরমভাবে গুনাহগার হতে হবে!কারন;আল্লাহ স্বয়ং নিজে ঘোষণা করেছেন “পুরুষ নারীর চেয়ে শ্রেষ্ঠ[বাকারা/২২৮,নিসা/৩৪]!

—কোনো স্বামী যদি তার স্ত্রীকে তিন তালাক দেবার পর,আবার যদি সে স্ত্রীকে ঘরে তুলতে চায়,তাহলে ঐ স্ত্রীকে অন্য পুরুষের সাথে বিবাহ দিতে হবে,এবং ঐ নারীকে বিবাহ করা স্বামী বাসর করার যদি তালাক দেয়,তবেই পুনরায় ঘরে তোলা সম্ভব;আর এটা হচ্ছে আল্লাহর আইন!অথচ;রাষ্ট্র যখন এই আইনকে বাতিল করে এবং জঘন্য বলে ঘোষণা করে,তখন সে রাষ্টকে ইসলামিক রাষ্ট্র বলা কতটুকু যুক্তিসঙ্গত?

—-যে রাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রী কোরআন পড়ে,আর কোরআন মোতাবেক বিধান দেয় না,সে রাষ্ট্র ইসলামিক রাষ্ট্র কখনো হতে পারে না।কোরআনে বলা হইছে, ” যারা কোরআন দ্বারা সমাজে বিধান দেয় না,তারা জালিম-কাফির[মায়েদা/৪৪-৪৬]!

—-বড় পরিতাপের বিষয়, যারা আল্লাহ ও রাসুলের বিরোধিতা করে তাদের হত্যা কিংবা দেশান্তরি করা ফরজ[মায়েদা/৩৩,আহযাব/৫৭-৬১],অথচ;যে দেশের কাফের, নাস্তিক, মুরতাদের হত্যা করলে বিচারের সম্মুখীন হতে হয়,সে দেশ কি করে ইসলামিক রাষ্ট্র হয়?আজব! এদেশ ইসলামিক রাষ্ট্র নয়;এদেশ মুসলিম দেশও নয়;এদেশ সংখ্যা গরিষ্ঠ মুসলিমদের দেশ;এদেশে বাঙালি মুসলিমরা মূলে বাঙালি জাতি,মুসলিম জাতি নয়! হে আল্লাহ! তুমি বাঙালি মুসলিম জাতিদের রক্ষা করো;এরা মস্তিষ্ক প্রতিবন্ধি হয়ে যাচ্ছে দিন দিন….!

ধন্যবাদান্তে

শহিদুল শাহ্

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *