সুতপা, সুমি আর আমার প্রথম প্রেমপত্রের গল্প!

হিন্দু ধর্মধারী সুমি আর আমি প্রথম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত একসাথে পড়েছি একই স্কুলে একই ক্লাসে। ওর বাপ-দাদা পুরুষাণুক্রমে ঢাক বাজাতো, তাই ‘ঢাকী’ বলা হতো ওদের পরিবারকে। আমাদের বাড়ির সামান্য পুর্বদিকেই ঠিক নদীর তীরে ছিল সুমিদের কুঁড়েঘরের দরিদ্র বাড়ি। আমি প্রায়ই নিজ হাফপ্যান্ট খুলে সুমির ঘরে রেখে নদীতে ঝাঁপ দিতাম ন্যাংটা হয়ে। সুমি আমার প্যান্ট হাতে দাঁড়িয়ে থাকতো নদীতীরে অনেকক্ষণ! আমরা ৩/৪-জনে একসাথে স্কুলে যেতাম দলবেঁধে। বর্ষার জল-কাদাতে সুমিকে অনেকবার হাত ধরে বাঁশের সাঁকো পার করিয়েছি আমি। কিশোর স্বৈরাচারী আমার কথা অগ্রাহ্য করাতে দুয়েকবার মেরেছিও তাকে খুব। একবার আমার মার কাছে নালিশ করেছিল সুমি, “ওরা গরিব আর হিন্দু বলে আমি নাকি প্রায়ই মারি তাকে”! কেঁদেছিল ও খুব আমার মার আঁচল ধরে! সেই থেকে আর কোনদিন মারিনি সুমিকে। তারপর থেকেই সুমির জন্য পাগল হয়েছিলাম আমি। রাস্তায় প্রায়ই তাকে চিমটি কাটতাম কখনো ভালবেসে, কখনো খ্যাপাতে। ক্লাস এইটে উঠেই বন্ধুর সহায়তায় দুটো পাখির ছবি আঁকা “ভুলনা আমায়” লেখা রঙিন প্যাড কিনে প্রেমপত্র লিখে সুমির হাতে গুঁজে দেই একদিন। কিন্তু সে দু-তিন দিনেও ফেরতপ্রেমপত্র না দেয়াতে আবার ক্ষেপি আমি সুমির ওপর। একদিন রাস্তায় একাকি পেয়ে বড় গাছের সাথে চেপে ধরে গ্রাম্য দৃঢ়তায় বলি, ‘কেন প্রেম করবি না আমার সাথে বল’? ভয়ে চোখ ভিজিয়ে, আর গলা কাঁপিয়ে সুমি বলে, “আমরা হিন্দু, ঢাকী আর খুব গরিব! তোমার সাথে প্রেম করলে কখনো বিয়ে হবেনা আমাদের। তোমার ধনী মুসলিম পরিবার মারবে আমার মা-বাবা আর আমাকে। তাই ভয়ে জবাব দেইনি চিঠির। কিন্তু সত্যি ‘লাভ ইউ’ ফ্রেন্ড”! সুমির ‘লাভ ইউ’ শুনে মনের অলিন্দ ছুঁয়ে সুন্দরের অলিক তন্দ্রা ভেঙে জেগে উঠি আমি কুয়াশাঘন মেঘনা তীরে। সারাদিন নদীতে সাঁতার কাটতে থাকি ‘লাভ ইউ’র কৈশোরিক রোমান্সে! পকেট খালি করে প্রেমপত্রে সহায়তাকারী বন্ধুকে বাজারে “চান বিস্কুট” আর “স্টার সিগারেট” কিনে খাওয়াই। খুশীতে সিগ্রেট কিনে সন্ধ্যার অন্ধকারে দুজনে স্টিমারের মত ধোঁয়া ছাড়তে থাকি স্কুলের মাঠে! প্রেম পাওয়ার কৈশোরিক অপার আনন্দে!
:
৯ম শ্রেণিতে ওঠার কিছুদিনের মধ্যেই খবর আসে এক জেলে তরুণের সাথে বিয়ে হচ্ছে সুমির। তাকে চিনতাম আমি! তাই কাঁদতে কাঁদতে মাকে বলি, ‘মা সুমিকে বিয়ে করবো আমি’। হাসতে হাসতে মা গড়াগড়ি যায় মাটিতে। রাগে মার আঁচল ধরে টানতে টানতে খুলে ফেলি কাপড়। এসব দেখে বড়বোন এসে চড়-থাপ্পর দেয় গালে জোরে আমার। প্রথম যৌবনময়তার ক্রোধে ঘরের বড় ঘাসকাটা দা হাতে নেই সুমির বাবাকে কোঁপাতে। দুপুরের খোলা ঘরে ঢাকীকে না পেয়ে, তার দুটো ‘ঢাক’ ভেঙে ফিরে আসি নিজ ঘরে বীরদর্পে। সিনেমাপাগল আমায় নিয়ে মা শহরে যায় সিনেমাদেখা ও তার ডাক্তার দেখানোর মিথ্যে কথা বলে ফুসলিয়ে। দুদিন সিনেমা দেখে, মায়ের নানাবাড়ি বেড়োনো শেষ করে, নতুন গোলাপী সার্ট কিনে, যখন ফিরে আসি নিজ গাঁয়ে, ১৫-বছরের সুমি ঢাকী তখন ইলিশ ধরা কুচকুচে তামাটে দক্ষ জেলে গোপাল জলদাসের স্ত্রী ‘সুমি জলদাস’!
:
একবার ইচ্ছে হলো, গোপালের নৌকা ফুটো করে মেঘনাতে ভাসিয়ে দিই সাহসী রাজপুত্রের মতো। কিন্তু ভয়ে তা না করে কেবল ওর ইলিশ ধরার জালগুলো কেটে দিলাম এক রাতে ধারালো ব্লেড কিনে ৪-আনায়। মনে আছে, মা নতুন জাল কিনে দিয়েছিল গোপাল জলদাসকে। এরপর নদী তীরে গেলেই সুমি দৌঁড়ে চলে যেতো ঘরে তার! হয়তো ভয়ে কিংবা ভালবাসায় জানিনা আমি! তখন প্রচন্ড রাগ হতো আমার। ইচ্ছে হতো সুমীকে নিয়ে মেঘনায ঝাঁপ দেই গলাগলি করে। কিন্তু ওর অবজ্ঞা একসময় বিরক্তি, শেষে ঘৃণা কিংবা আমার অবজ্ঞায় পরিণত হলো কিভাবে যেন!
:
গাঁয়ের স্কুল থেকে এসএসসি পাস করে শহুরে হলাম আমি। ঢাকা ভার্সিটিতে পড়া শেষ করে বিদেশ চলে যাই মার ইচ্ছেতে। তারপর জীবন কবিতার কত পাতা ওল্টালাম আমি। দারুচিনি লবঙ্গি বনের ঘ্রাণতায় কত দেশ ঘুরলাম আমি একাকি রাবিন্দ্রীক বলাকার মতো! কত মানুষ দেখলাম এ চোখে! নুতন প্রেমে পড়লাম! নতুন কষ্টের দহনে সুমি ঢাকীর স্মৃতি ধুসর করে দিলো জীবন থেকে আমার!
:
বছর কুড়ি আগে নদীগ্রাসে ভেঙে গেলো আমাদের বাড়ি। সুমিদের বাড়ি। আমার অন্য সব স্বজনদের বাড়িও। সব পরিচিত স্বজনরা কে কোথায় নতুন বাস্তুতে গেল সব জানিনা আমি। সরকারি বড় চাকুরে আর ঢাকার অভিজাত এলাকার বাসিন্দা হিসেবে আর খোঁজ নিতে পারিনি ওসব দরিদ্র স্বজনদের। সুমি জলদাস দুই ছেলেমেয়ে নিয়ে জলদাস জেলেনি হিসেবে মন্দ নেই একেবারে, এটাই কেবল জানতাম পুরনো বন্ধুদের কাছ থেকে।
:
এরমধ্যে ফিলিপিন্সে ১৫-দিনের সিনিয়র ম্যানেজমেন্ট কোর্সে অংশ নিতে লিস্টে নাম এসেছে আমার একটা গ্রুপের সাথে। তার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম ভিসা-টিকেট, প্রশাসনিক মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ‘জিও’ এসবের। হঠাৎ গাঁ থেকে ফোন এলো স্কুলের পুরনো বন্ধু রফিকের। জানালো, সুমি জলদাস মৃতপ্রায়। থাকে নতুন জেগে ওঠা চর ‘আরেক কেতুপুরে’। আমাকে দেখতে চায় সে মৃত্যুর আগে একবার! ছুটি না নিয়েই রাতের লঞ্চে উঠে পড়লাম সুমির নতুন চরে যেতে। ঢাকা থেকে রাঙাবালির দ্বিতল লঞ্চ, যা ঐ চরে স্টপেজ দেয় ভোর রাতের দিকে।
:
জুতো খুলে প্যান্ট গুটিয়ে জলচরে নামলাম আমি আরো অনেক চরজীবি মানুষের সাথে লঞ্চ থেকে। বন্ধু রফিক নৌকো নিয়ে অপেক্ষা করছিল আমার জন্য নদীতীরে। চারদিকে অথৈ মেঘনার ঘোলা জল। মাঝে মাঝে কেবল মাথা তোলা জেলে কৃষাণদের দরিদ্র কুঁড়েগুলো। উজান থেকে আসা জোয়ারের অযাচিত জল পুরো চরকে মিনি সমুদ্রে পরিণত করে রেখেছে যেন। সূর্য ওঠার সাথেই আমরা নৌকো ভেড়ালাম একদম সুমি জলদাসের কাঁচা ঘরের জল থই-থই ভিটির সাথেই।
:
শন-খড়ের ছাউনি আর হোগলা পাতার বেড়া দেয়া সুমি জলদাসের ভেজা মাটির ঘর। চারদিকে খোলা, কেবল বেশ কটি কলা আর মাদার গাছ লাগানো। এক চিলতে উঠোন। যা ঘিরে রেখেছে চরের নল-খাগড়া জাতীয় তৃণ-ঘাস। তার মাঝে সুপুরি গাছের হাতে বানানো পুরনো খাটে শুয়ে আছে ঝরা বকুলের চাঁদর গায়ে সুমি নামের মাঝ বয়সি এক নারী। সেবা করছে তার কিশোরি মেয়েটি পাশে বসেই। অনেক বছর পর দু:খের কফি রঙের ফিঙে পাখির মতো দেখলাম সুমিকে আমি পরম নিবিড়তায়। বনস্পতির সুষমায় নিটোল ভরাট শরীরের অষ্টম শ্রেণির পনেরো বয়সি সুমির বদলে, এক ক্ষয়িষ্ণু ধুসরতার লিকলিকে জীবন বয়ে জল চাতকের প্রতীক্ষায় মুখ তুলে চাইলো সুমি আমার দিকে। রক্তাক্ত হৃদয়ে চমকিত হয়েও মেঘরাজ্যের আনন্দ বৃষ্টির এক দেবতার মতো সাহস দিয়ে সুমিকে বললাম, ‘কেন এতোদিন জানাওনি আমায়? এতো ঘৃণা কেন পুষলে তুমি এতো বছর? ঢাকায় কিংবা ভারতে চিকিৎসা করাতে কেন দিলেনা আমায় তুমি’? এসব কথায় কিছুই বললো না সুমি, গর্ভিণী ধৃত মৃতপ্রায় মাছের ঘোলাটে চোখের মত কেবল তাকিয়ে রইলো আমার মুখের দিকে। দহনের জলচর মাঝে সজাগ হয়ে এবার হাত ধরলাম সুমির। অর্ধোস্ফূট সত্যের মুখোমুখি হয়ে সুমি কেবল চোখে জলের বন্যার স্রোত বয়ালো ক্রমাগত। আমি বুকের কষ্টকে আটকে বৃদ্ধ ধ্যানী জারুল গাছের মত প্রজ্ঞাময়তায় বলি, ‘তোমার চিকিৎসার কাগজপত্র সব দেখি’? বন্ধু রফিক আর সুমির কিশোরীকন্যা সুতপা বিছানার নিচ থেকে পুরণো ময়লা কিসব কাগজপত্র বের করে। কিশোর ছেলে আর স্বামী সাগরে গেছে মাছ ধরতে দিন পনেরো আগে! কোন খোঁজ নেই তাদের। এ মেয়েটিই মুখে জল দিচ্ছে, দেখ-ভাল করছে শূন্য একাকি ঘরে মা সুমিকে। মৃতলোকের প্রত্নঘোরের দরজায় দাঁড়ানো সুমির কাগজপত্র নিয়ে তখনই নৌকোযোগে যাত্রা করি শহরের পথে। প্লান, BCS-ব্যাচমেট পরিচিত এক ডাক্তারের সাথে কথা বলবো আগে, তারপর দেখি সে কি বলে সুমীর অসুখ আর চিকিৎসার ব্যাপারে!
:
কোন সুখ কিংবা আশার কথা বললো না শহুরে ডাক্তার বন্ধু। Leukemia তথা ব্লাড ক্যান্সারের শেষ পর্যায় সুমির। রক্ত দেয়া দরকার ছিল মাঝে মাঝে কিংবা বোনমেরু ট্রান্সফার। যা করতে পারেনি সুমি জলদাসের দরিদ্র অসচেতন পরিবার। এ অশুভ সংবাদ বয়ে শহর থেকে ছোট লঞ্চে ফিরতে বিকেল হলো আমার। ভাটার টানে জল নেমে গেছে, তাই ভেজা শুকনো ডাঙায় নামলাম লঞ্চ থেকে। ঘাটে দাঁড়ানো বন্ধু রফিক চোখ মুছে বললো, “একটু আগে মারা গেছে সুমি। সুতপা মেয়েটি কাঁদছে একাকি মৃত মায়ের লাশ জড়িয়ে। এখানে হিন্দু পরিবার আর নেই এখন! সব চলে গেছে ভারতে পরিজায়ী পাখি হয়ে। কি করবো আমরা? স্বামী ছেলেও সাগরে। তাদের কোন মোবাইলও নেই যে, তাদের সংবাদ দেবো”!
:
স্কুল সময়ের পুরণো জীবন সন্তরণে অপূর্ণতার আঁধার ঘরে দাঁড়াই সুমির লাশের পাশে আমি। মার মৃত জীবনের কষ্টবাতি হাতে সুতপা মেয়েটি জড়িয়ে ধরে আমায় এবার। রফিক আর আগত প্রতিবেশিরা বলে, “মারা যাওয়ার প্রাক-মূহূর্তে কথা বলেছিল সুমি। মেয়েটিকে যেন দেখি আমি, এ আকুতি রেখে গেছে সে আমার জন্যে”। ইঞ্জিনচালিত নৌকো পাঠিয়ে পাশের গাঁ থেকে হিন্দু জেলেদের ডেকে আনি সুমির শেষ কৃত্যানুষ্ঠানে। সব আনুষ্ঠানিকতা করাই পাশের সব মুসলিম বন্ধুদের ডেকে। ভরা দশমীর শরমী চাঁদের মত সুমির দিকে তাকিয়ে ইচ্ছে করে, ওর কপালে শেষ সিঁদুর পরাই আমি নিজ হাতে। কিন্তু অধীর হিংসায় মহাকম্প ভয়ের কুৎসিত “ধর্ম জননী” হাত চেপে রাখে আমার দৃঢ়তায়। সুমিকে যখন চিতায় তোলে সবাই হরিনাম জপে, কান্নার নিশুতি হাওয়ায় চরের বৃক্ষ আর ঘাসফুলেরা ঘুরতে থাকে তখন চারদিকে আমার! সুপান্থের জালে আটকে পরা ইলিশের মত, সপ্তরঙা নগ্ন দু:খরা ভেসে বেড়ায় মেঘনার ঘোলা জলে চক্রাকারে। বৃহন্নলা অশ্বথ গাছ হয়ে আমি ঠায় দাঁড়িয়ে থাকি সুমির মৃত চোখে চোখ রেখে। এ কাকদ্বীপের বহতা বাতাস আর গুবরে শালিকেরা আষাঢ়ের জলবন্দী গেরস্থের ঘরে কাঁদে সুমি আর তার কন্যা সুতপা কিংবা আমার দু:খে!
:
জীবন বেহালার বারোয়ারি মানব জমিনের করুণ ধ্বনিতে চিতায় আগুন দেয় হিন্দু জেলে জলদাসরা। গোধূলির প্রাক-সন্ধ্যায় ব্যথাতুর ঘুঘু ডাকা সময়ে আমার চোখের সামনেই জ্বলতে থাকে, আমার প্রথম প্রেমপত্র গ্রহণকারী সুমির শীর্ণকায় লিকলিকে দেহ। জ্বলতে থাকা আগুনে নিঃশব্দ লিপ্তির বিষাদে মন পুড়তে থাকে আমার। হাটুভাঙা কষ্টের কান্না দমাতে আমি ৭-বছরের সুতপাকে নিয়ে ৭-টা চক্কর দেই জ্বলন্ত চিতার চারদিকে এবার। ক্ষীয়মান নক্ষত্রের কান্নার মতো সুমির দেহ এক সময় লিন হয় বাতাস আর অগ্নিদহনে গঙ্গাজল ছাড়াই। জীবন নাচনের বায়বীয় সুড়ঙ্গে ঢুকে আমি সুতপাকে নিয়ে এবার নামি মেঘনার ঘোলাজলে। যেখানে ফেলা হয়েছে সুমির দেহজ ভস্ম। মৌলিকতার দুঃখবোধসমগ্র ধুয়ে দিতে, ডুব দিতে থাকি আমি ক্রমাগত সুতপাকে কাঁধে নিয়ে। পৃথিবীর সকল ভোগবাদি জ্যামিতির হিসেব-নিকেশ ফেলে আমি শ্বাশত গাংচিলের ডানায় উড়তে থাকি তখন। জীবনের গভীরে থাকা রুদ্ধ কান্না হাহাকার করে এবার বেড়িয়ে আসে আমার হৃদয় ফেঁড়ে প্রবল জলতলে।
:
অন্ধকার রাতে চোখ ঝলসানো সপ্তরঙা সার্চলাইট ফেলে ঢাকাগামি লঞ্চ থামে সুমির কেতুপর গাঁয়ের ঘাটে। আমার জ্বলন্ত মেটামরফসিস জীবন ট্রাকে সুতপা জলদাসকে নিয়ে পা রাখি লঞ্চের নড়বড়ে সিঁড়িতে। অন্ধকার রাতের মেঘনার জলত্রাসের অনাগত রুপকথার মাঝেও সুতপার হাত ধরে আমি দেখতে পাই, আগামির আনন্দময়তার প্রসন্ন তারারা হাসছে নাক্ষত্রিক নীলাভ আকাশে। জীবনের শুকনো পাতারা কান্না ছেড়ে স্বশব্দে বের করছে তাদের নতুন কুঁড়ি। ঘোর রাত্রির মেঘনার জনকল্লোলে আকস্মিক স্বচ্ছতায় দেখতে পাই আমি, সুমিকে চিঠি হাতে। আমার জীবনের বুকপকেটে ৮ম শ্রেণি থেকে রক্ষিত ছিন্নতর শ্বাশত প্রেমপত্রের জবাব নিয়ে সুমি হাত জাগিয়ে অন্ধকার মেঘনার জলমাঝে এবার! দুর্বোধ্য কবিতার অনন্য বোধের মত সুমি বলছে তার ফেরত চিঠিতে, “আমার কন্যা সুতপাকে দেখো রেখো তুমি! ওতো তোমারই প্রথম প্রেমের সন্তান হওয়ার কথা ছিল! ধর্ম আর ধন তা হতে দিলোনা! ওকে দিয়ে গেলাম তোমার হাতে”!

You may also like...