হিস্টোরিক্যাল সায়েন্স বনাম অপারেশনাল/অব্জারবেশনাল/ এক্সপেরিমেন্টাল সায়েন্স (ফ্যালাসি)

 

প্রায়শই ইভুলেশান তত্ত্বকে ভুয়া প্রমানের জন্য একটা ট্রিক করা হয়ে থাকে সেটা হচ্ছে ইভুলেশানারী সায়েন্স কে হিস্টরিক্যাল সায়েন্স এর ট্যাগ দেওয়া হয় , আরো বলা হয়ে থাকে হিস্টোরিক্যাল সায়েন্স কোন ধরনের টেস্টেবল প্রিডিকশন করে না, শুধু মাত্র অনুমান নির্ভর বা ওয়েল এডুকেটেড গেস , যেহেতু বিবর্তন তত্ত্বে হিস্টোরিক্যাল সায়েন্স প্রয়োগ করা হয় সুতরাং জীববিজ্ঞানের তেমন কিছু পরিবর্তব হবে না এই মেথডিলজির কারনে , কারন ” থিওডিয়াস ডবঝনাস্কির সেই বিখ্যাত কোটেশান ” বিবর্তনের আলোছাড়া জীববিজ্ঞান আচল ” এই কথার কোন সেন্স মেইক করে না। আরো বলা হয়ে থাকে অপারেশনাল, অব্জাভেশনাল অথবা এক্সপেরিমেন্টাল সায়েন্স হচ্ছে আসল সায়েন্স, কারন এগুলো বর্তমানে অবজারভ করা যায়, এবং সেই অনুযায়ী হাইপোথিসিস মেইক করা যায়।

তাহলে বিবর্তনের আসল ইতিহাস বাদ দিয়ে, শুধুমাত্র মাত্র বর্তমানের ইতিহাস উপর নির্ভর করে আমরা কিভাবে বিজ্ঞানের অন্যান্য শাখা থেকে হিস্টরিক্যাল সায়েন্স কে আলাদা করি।

হিস্টোরিক্যাল সায়েন্স কি – প্রথমে বলা যাক হিস্টরিক্যাল সায়েন্স (Historical science) শব্দটি চাঁদ বা আইফেল টাওয়ার বা চার্লস ডারউইনের মতো কোনও হিস্টরিক্যাল কোন বিষয়কে বোঝায় না।

হিস্টরিক্যাল সায়েন্স অন্যান্য সায়েন্সের সাথেই সম্পর্কিত, প্রতিটি বিজ্ঞানের শাখা একটি সাধারণ লক্ষ এবং মেথড শেয়ার করে, বেশিরভাগ বিজ্ঞানীর সাধারণ লক্ষ থাকে সত্য অনুসন্ধানের। আর তাই সত্য উদঘাটিত করার জন্যেই একটি থিওরী তৈরি করা হয়ে থাকে, এবং সেই থিওরী যাতে করে রিয়েলিটিকে ম্যাচ করে সেটাই থাকে উদ্দেশ্য। অন্যান্য সায়েন্টিফিক মেথডিলজির মতই এখানেও থাকে অব্জারবেশন, কল্পনা, এবং লজিকের সমন্বয়।

physical experiment —observation — reality check — prediction– Theory

আমরা বিজ্ঞানের অন্যান্য শাখাকেও এভাবে লেভেল দিতে পারি ফিজিক্যাল সায়েন্স থেকে লাইফ সায়েন্স কে আলাদা করতে পারি, এম্পেরিক্যাল সায়েন্স থেকে থিওরিটিক্যাল সায়েন্স কেও আলাদা করতে পারি আবার ন্যাচারাল সায়েন্স এবং সোস্যাল সায়েন্স কেও আলাদা করতে পারি।

এটা বিজ্ঞানের অনেকগুলো ক্ষেত্রকে আলাদা করা বৈকিছুই নয়। বিজ্ঞানের ফিল্ডগুলোকে এভাবে আলাদা করলেই কি এদের গুরুত্ব কমে যায় ? এভাবে কিছু প্রাসংঙ্গিক বিষয়কে হিস্টরিক্যাল বলে আলাদা করতে পারি কিন্ত তাতে কি প্রমান হয় যে সেই সব বিষকে বিজ্ঞান নির্ভর‍যোগ্যভাবে বলতে পারে না।

Reasoning about the past

মনে করুন একদিন বাহির থেকে ঘরে এসে দেখলেন আপনার ছেলের সাইকেলটা যে জায়গায় থাকে সেখানে নেই।

আপনি এই অতীতে ঘটে যাওয়া ঘটনার সম্ভাব্য দুটি রিজনিং খুঁজবেন। হয় সাইকেল চুরি হয়ে গেছে অথবা সাইকেল আপনার ছেলে নিয়ে তার বন্ধুর বাসায় গেছে। এখন এই দুটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যার জন্য আরো তথ্য উপাত্ত খুঁজতে থাকবেন।

প্রথমত আপনি ব্যাখা করতে পারেন আপনার ছেলে যদি সাইকেল নিয়ে বন্ধুর বাসায় যেত তাহলে আপনাকে হয়তো একটা টেক্সট ম্যাসেজ দিত সুতরাং আপনার কাছে দ্বিতীয় ব্যাখ্যাই যুক্তিযুক্ত মনে হলো যে সাইকেল হয়তো চুরি হয়েছে, কিন্ত আপনি দেখলেন ঘরের দরজা জানালা সব ঠিক আছে কিছুই ভাঙ্গা না চোর আসলে অন্তত দরজা জানালা ভেঙে ঘরে ঢুকতো, কিছু চুরি হয়ছে বলে আপনার মনে হলো না। সুতরাং এবার আপনি আবার প্রথম ব্যাখ্যায় গেলেন। ভাবলেন হয়তো আপনার ছেলে আপনাকে টেক্সট দিতে ভুলে গেছে। আপনার কাছে মনে হলো এটাই আরো বেশি যুক্তিযুক্ত। কিন্তু এই হাইপোথিসিসের জন্য আরো ডেটা দরকার হলো ।

আপনার এই অনুমানকে পরীক্ষা করার জন্য কাজ শুরু করলেন। বাড়িতে ঢুকে আপনার ছেলের নাম ধরে ডাকলেন কিন্তু কোন উত্তর এলো না। কিন্ত এটা তো আপনার হাইপোথিসিস কে প্রমান করে না যে সাইকেল চুরি হয়েছে কারন কোন কোন সময়ে আপনার ছেলেকে আপনি ফোন দেন কিন্তু সে কানে হেডফোন লাগিয়ে গান শোনে সুতরাং আপনি এখনো সিধান্ত নিতে পারলেন না যে সাইকেলের কি হলো! আপনার এই হাইপোথিসিসের জন্য আরো ডেটা লাগবে।

হঠাৎ করে আপনি দেখলেন আপনার ছেলের মোবাইল ফোন পড়ে আছে ড্র‍য়ারে তার পাশে লেখা একটা নোট। নোটে লেখা আমি কুদ্দুসের বাসায় গেলাম। আমার ফোনে চার্জ নেই, রাতে ফিরবো।

হঠাৎ করেই আপনি অতীতের সমস্ত ঘটনার একটা চমৎকার সমাধান করে ফেললেন । অথাৎ আপনার ছেলে তার সাইকেল নিয়ে বন্ধুর বাসায় গেছে। সুতরাং আপনার হাইপোথিসিস থিওরীতে রুপান্তরিত হলো। এরপরও একটা ব্যাপার হতে পারে, হয়তো আপনার ছেলে হেটে তার বন্ধুর বাসায় গেছে, (সাইকেল আসলেই চুরি হয়েছে) যদি আপনার ছেলে রাতে না ফেরে বা অন্য কিছু হয় তাহলে আপনার থিওরি ভুল প্রমান হবে। কিন্তু কারেন্ট এভিডেন্স এবং ডেটার উপর ভর করে সাইকেল যে চুরি হয় নাই তার একটা ওয়েল থিওরী দাঁড় করানো যায়। যদিও সেটা অতীতে ঘটেছে কিন্তু রিজনিং খুঁজতে গেলে এভাবেই খুঁজি আমরা।

যদিও এই গল্প বিজ্ঞানে ফিট হবে না কিন্তু

যদি ন্যাচারে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোকে আপনি

আরো ভালোভাবে এবং সিস্টেমেটিক ভাবে অবজার্ভ করেন তাহলে যা পাবেন তাতে হিস্টরিকাল সায়েন্সের কাছাকাছি ঘটনার মিল পাবেন।

ফরেন্সিক সায়েন্স ১০০% ভাবে ঘটে যাওয়া অতীতের ঘটনাগুলোকে এভাবেই ব্যাখ্যা করে। হত্যার ঘটনায় হত্যাকারীর বিষয়ে বিভিন্ন টেস্টবল হাইপোথিসিস কে প্রিডিক্ট করা হয় এবং ডিএনএ এভিডেন্সের ভিত্তিতে অতীতে ঘটে যাওয়া একটা হত্যার ঘটনাকে রিকন্সট্রাক্ট করে হত্যাকারীকে ধরা হয়।

অব্জারবেশন এবং প্রিডিকশন চুরি হয়ে যাওয়া সাইকেল অথবা ফরেন্সিক হত্যা কান্ডের অতীতের রহস্য উন্মোচনের মত থিওরী অফ ইভুলেশান শুরু হয় অব্জারবেশন দিয়ে।

ডারউইন তার অরিজিন অফ স্পিশিজ লিখেছেন

অবজারবেশন এর উপর ভিত্তি করে। এবং অবজারবেশনের উপর ভিত্তি করেই তিনি তার ভেস্টিজিয়াল অরগান হাইপোথিসিস, এবং প্রজাতির ভিন্নতার হাইপোথিসিস দিয়েছিলেন।

তার জীবদ্দশায় বেশিরভাগ হাইপোথিসিস প্রমানিত ছিল না। তার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ একটি হাইপোথিসিস ছিল সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রানী যেমন তিমি এবং ডলফিনের বিবর্তন হয়েছিল ল্যান্ড ডুয়েলিং কোন প্রানী থেকে, গত কয়েক দশকের বিভিন্ন ফসিল থেকে এখন এটাই প্রমানিত তিমি, ডলফিনের কমন এন্সেস্টর ছিল ল্যান্ড ডুয়েলিং ( ডাঙ্গায় চরতে পারা) প্রানী। তার সেই প্রেডিকশন এখন প্রমাণিত ।

বিবর্তনের আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রেডিকশন

ছিল সুদূর অতীতের টিকটালিক ফসিল (Tiktaalik fossil)।

এই ফসিল পাওয়ার আগে জীবিজ্ঞানীরা প্রেডিকশন করেছিলেন ডাঙায় থাকা আজকের প্রানীরা প্রায় ৩৭৫ মিলিয়ন বছর আগে একুয়াটিক প্রাণী থেকে বিবর্তিত হয়েছে। সুতরাং বিবর্তন যদি সত্য হয় এই সময়ে কোন না কোন ট্রাঞ্জিশনাল ফসিল পাওয়া যাবে যার বয়স হবে আনুমানিক ৩৭৫ মিলিয়ন বছর। জীববিজ্ঞানীরা ফসিলের খোঁজ করতেই থাকলেন দীর্ঘ সময় ধরে। এই পরিমাণ পাথরের স্তর রিসার্চারদের জন্য শুধুমাত্র এক্সেসেবল ছিল উত্তর কানাডায় দুর্গম অঞ্চলে । ১৯৯০ এর শেষের দিকে এক্সপিডিশন চলতে

থাকে অবশেষে ২০০৪ এ ৩ টি টিকটালিক ফসিল পাওয়া যায় যা কিনা প্রমান করে মাছ এবং এম্ফিবিয়ানের(মাছ থেকে উভয়চরের) ইন্টারমিডিয়েট রুপ।

এই অতীতের ঘটনা এটাই প্রমাণ করে যে ইভুলেশান থিওরি নিয়ে ব্যাসিক আন্ডারস্ট্যান্ডিং

এবং পৃথিবীর ন্যাচারাল যে হিস্ট্রি আছে তা ১০০% ভাগ সঠিক। ।

আজকে ডিএনএ (Dna) অন্যতম একটা মাধ্যম যাতে করে বিভিন্ন ইভুলেশানারী হাইপোথিসিস গুলোকে টেস্ট এবং কনফার্ম করা যায়। Dna এর কম্পেয়ার করার মাধ্যমে আজকে বিভিন্ন প্রজাতির মধ্যকার কমন এন্সেস্টর প্রেডিকশন করা যায়। এবং বিজ্ঞানীরা সেই টাইম পিরিয়ড অনুযায়ী ফসিলের খোঁজ করতে পারেন।

বিজ্ঞান এবং প্রাকৃতিক ইতিহাসের সীমাবদ্ধতা যেমন আছে তেমনি বর্তমান সময়ে বিজ্ঞান কি কি ব্যাখ্যা করতে পারে তারও সীমাবদ্ধতা রয়েছে, তেমনি আমাদেরও আশা করা উচিত নয় যে বিজ্ঞান অতীতে ঘটে যাওয়া সমস্ত কিছুর উদয় থেকে অস্ত যাওয়া সব কিছু ব্যাখ্যা করবে । বিজ্ঞান প্রাকৃতিতে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোকেব প্যাটার্ন অনুযায়ী বা ল দ্বারা উন্মোচিত করার জন্য উপযুক্ত। তাই এটাকে আমরা পৃথিবীর প্রাকৃতিক ইতিহাস বলে থাকি।

 

 

রেফারেন্স

১।। https://ncse.ngo/…/historical-science-vs-experimental…

২।। https://www.nature.com/news/2006/060403/full/060403-7.html

৩।। https://www.smithsonianmag.com/…/how-did-whales-evolve…/

You may also like...

1 Response

  1. Faruk Hyder Choudhury says:

    Congratulations and thanks 🙏🏼

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *