১৯৪৬ এর ‘গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং’ : আকাশ থেকে পরেনি

১৬ই অগাস্ট, ১৯৪৬ অবিভক্ত ভারতের কলকাতার বুকে যা ঘটেছিলো তা কোনো সভ্য মানবসমাজের লোকগাঁথা নয় । মানুষের মানুষকে উন্মোত্ত ধর্মীয় আক্রোশে হত্যা ইতিহাস রক্তে খচিত হয়েছিল সেদিন, তবে সেটাই প্রথম নয়, এর শুরু হয়েছিল হাজার খানেক বছর আগেই । লিখতে গেলে ১৯৪৬ এর ‘গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং’ নিয়ে অনেক কিছুই লেখা যায় কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যায়, এই লেখা কেন ? কাদের জন্য ? লেখার উদ্দেশ্য কি ?

 

পাঠক, ১৯৪৬ এর ‘গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং’ নিয়ে লেখা প্রকৃত ইতিহাসকে সামনে আনার জন্য । লেখা অবশ্যই বর্তমান ও আগামী প্রজন্মের জন্য যারা ইস্কুলের গন্ডি থেকে শুরু করে কফিহাউসের আড্ডায় উপমহাদেশের বস্তাপচা বিকৃত ইতিহাস পড়ে এবং তাই নিয়ে চর্চা করে । তাই ১৯৪৬ এর ‘গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং’ নিয়ে লেখা এদের চোখ খুলতে এবং একদল মানুষ আছে যারা উপমহাদেশের প্রকৃত রাজনৈতিক ইতিহাস উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে গোপন করে এসেছে সেই অনেককাল আগে থেকেই । এদের উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে গোপন করা সত্যগুলোকে সকলের সামনে উন্মোচন করা দরকার, মানুষের অধিকার আছে সত্যকে জানার।

 

সত্য সদাই কঠিন, খুব সহজে গ্রহণ করা যায়না অনেক ক্ষেত্রেই । যত কঠিনই হোক না কেন, আসুন সত্য নিয়ে কাঁটাছেঁড়া করি : ১৯৪৬ এর ‘গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং’ নারকীয় দাঙ্গার ঘটনাতে মাউন্টব্যাটেন, গান্ধীর ‘অখণ্ড ভারত’ তত্ত্বকে ঘায়েল করে দিয়েছিল । মাউন্টব্যাটেন বলেছিল : ‘গান্ধীজীর একমাত্র অবদান, যা তিনি অনেক আগেই আমাকে বলেছেন, তা হচ্ছে আমি যেন ভারত-বিভাজনের কথা স্বপ্নেও না ভাবি। আমি বললাম, অন্য কোন পথ পেলে আমি কোন ক্রমেই ভারত ভাগের দিকে যাবো না। কিন্তু আপনি ১৬ আগষ্টের (১৯৪৬) কথা ভুলে যাবেন না যেদিন মি. জিন্নাহ কেবল মাত্র মহড়া হিসাবে কোলকাতায় ৫ হাজার লােককে খুন করেছিল এবং ১৫ হাজার লােককে আহত করেছিল। আমি মনে করি মি. জিন্নাহকে মাঝ পথে থামিয়ে দিতে না পারলে তিনি ‘সিভিল ওয়ার’ করবেন। এ ক্ষমতা তার আছে।’ উত্তরে গান্ধী বলেছিল : ‘হা, আমি আপনার সঙ্গে সহমত পােষণ করছি।’ (Mountbatten and The Pertition of India. Collins & Lapierre, Vol. 1,1992) । ‘গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং’ নারকীয় দাঙ্গার ঘটনাতে গান্ধী ২৮ আগষ্ট ১৯৪৬, অন্ধ আর কালা সেজে বলেছিল : “এখন আমার নীরব থাকাই বাঞ্ছনীয়।” (ভবানী প্রসাদ চট্টোপাধ্যায় – দেশ বিভাগ, পশ্চাৎ ও নেপথ্য কাহিনী ) ।

 

১৯৪৬ এর ‘গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং’ এর চার নম্বর দিন যখন উত্তর কলকাতার জনৈক গোপাল মুখার্জী ওরফে ‘গোপাল পাঁঠা’ র নেতৃত্বে হিন্দু ও শিখেরা প্রতিরােধ ও প্রতিশােধ নিতে শুরু করলো, তখন কুলাঙ্গার সোহরাবর্দীর ‘ছেঁড়ে দে মা, কেঁদে বাঁচি অবস্থা ! কুলাঙ্গার সোহরাবর্দী, দাঙ্গা থামাতে তড়িঘড়ি করে নামিয়ে দিল পুলিশ আর মিলিটারি । এই পুলিশ-মিলিটারি অবশ্য ১৬ই অগাস্ট একতরফা হিন্দু নিধনযজ্ঞ শুরু হলে পরে বিশেষ মানুষদের নির্দেশে জড়ভরতের রোলে পাঠ করেছিল । রাতারাতি বেগতিক পাল্টা মার পরার পরেই তারা আবার সক্রিয় হয়ে উঠে দাঙ্গা থামাতে ঝাঁপিয়ে পরেছিল ! ১৯৪৬ এর ডিসেম্বরে জিন্নাহ লন্ডনে গিয়ে ব্রিটিশ কেবিনেটের এক মন্ত্রীকে জানিয়েছিল যে, হিন্দুরাই আগষ্টে কলকাতার দাঙ্গা বাঁধিয়েছিল। (‘Jinnah had argued that the Hindus had organised the Calcutta riots in August.’ (Tranfer of Power, Vol. 9-V.P. Menon ) ।

 

পাঠক, সেই চিরাচরিত ইসলামী তাকিয়ার মিথ্যাচার ! উপমহাদেশের ইসলামিস্ট মহলে অবশ্য এখনও এই তথ্যই প্রচার করা হয় । পাঠক, ১৯৪৬ এর নারকীয় ‘গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং’ আকাশ থেকে পরেনি, সম্পূর্ণ কোরান সম্মত দ্বিজাতিতত্ত্ব থেকেই এর জন্ম হয়েছিল । মুসলমানদের কোরান স্পষ্ট বলে জাতি দুই প্রকার : মুসলমান ও অমুসলমান । অমুসলমানদের সাথে মুসলমানদের কোনো সখ্যতা দূরের থাক, তাদের সাথে একসাথে বাসিই করা যায়না আর তাই পৃথক পাকিস্তান ছিনিয়ে নিতে ‘হাত মে বিড়ি, মু মে পান, লড়কে লেঙ্গে পাকিস্তান’ স্লোগান তুলে মুসলমান জনতা বিধর্মীদের উপর ঝাঁপিয়ে পরেছিল । এটাই ইতিহাসের অবিকৃত সত্য………….………..

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *