EUTHYPHRO DILEMMA – বেঙ্গল আরজ

মানুষের নৈতিকতা কোথা থেকে আসে এই নিয়ে বহু বছর ধরেই আস্তিক- নিধার্মিকদের মাঝে বিতর্ক রয়েছে। যদিও নৈতিকতার বেশ কিছু থিওরি আছে, কিন্তু আস্তিকরা সকল থিওরি থেকে শুধু তাদের পছন্দের এবং অতিপরিচিত DIVINE COMMAND THEORY পছন্দ করেন। নৈতিকতা একটি জটিল বিষয় হওয়ার কারণে এখন পর্যন্ত একশভাগ সঠিক এবং কার্যকর (Foolproof, workable decision-making framework) কোন থিওরি কারো কাছেই নেই । তবে উল্লেখযোগ্য কিছু থিওরি যেমন, Divine Command Theory,  Virtue Ethics, Natural Law Theory,  Utilitarianism,  Kantianism , Natural Rights Theory,  Pluralism ইত্যাদি বহুল প্রচলিত। উল্লেখিত সবগুলো থিওরিতেই কিছু না কিছু সমস্যা রয়েছে। তবে সবচেয়ে বড় সমস্যা রয়েছে Divine Command Theory তে, এবং এটাই দুনিয়ার অধিকাংশ বিশ্বাসী ব্যাক্তিরা অনুসরন করেন। তাই আজকে আমরা এটা নিয়েই কথা বলব।

এই থিওরির মুল সমস্যা প্লেটো তুলে ধরেছিলেন (সক্রেটস এর গল্পে) তার বহুল প্রচলিত EUTHYPHRO DILEMMA  এর মধ্য দিয়েঃ

EUTHYPHRO DILEMMA টি দুটো অংশে প্রকাশ করা যায়ঃ

১- ভালো কাজ “ভালো” বলেই কি স্রষ্টা তা আদেশ করেন?

২- নাকি স্রষ্টা আদেশ করেন বলেই ভাল কাজ “ভাল” হয়?

প্রথম অংশ থেকে আমরা যা বুঝতে পারি তা হচ্ছে ভালো এবং খারাপ কাজ অন্তর্নিহিত ভাবেই ভালো এবং খারাপ, এর সাথে স্রষ্টা বা কোনো এজেন্ট এর কোন সম্পর্ক নেই,  বরং স্রষ্টা বা কোন এজেন্ট কোন কাজ সহজাতভাবেই ভালো এবং খারাপ বলেই সেটা পছন্দ/অপছন্দ করেন। এখানে নৈতিকতা স্রষ্টার মুখাপেক্ষী না,  বড় স্রষ্টা নৈতিকতার মুখাপেক্ষী। একই সাথে এটা সর্বশক্তিমান এবং সর্বজ্ঞানী স্রষ্টার ধারনার সাথে সাংঘর্ষিক (a moral law external to and higher than God)। এখানে নৈতিকতার অস্তিত্ব/অবস্থান স্রষ্টার অস্তিত্বের বাইরে/ EXTERNAL, তাই নৈতিকতার জন্যে আমাদের স্রষ্টার প্রয়োজনই নাই।

এবার দ্বিতীয় অংশ থেকে আমরা বুঝতে পারি যে স্রষ্টা যা কিছু ভালো বা মন্দ হিসাবে বিবেচনা করবেন সেটা সে হিসেবেই বিবেচিত হবে। এক্ষেত্রে যে সমস্যাটি দেখা যায় তা হচ্ছে স্রষ্টা আপনাকে কোন খারাপ কিছু করতে বললেও ( যা কিনা আপনার বিবেক, সমাজ বা রাষ্ট্রের দৃষ্টিতে খারাপ), সেটা আপনি করবেন, এ কারণেই যে স্রষ্টা তা বলেছে এবং শুধু সে কারণেই সেটা খারাপ। এখানে ভালো এবং খারাপ এর নিজস্ব কোন বৈশিষ্ট্য/স্বাতন্ত্র্য নেই,  স্রষ্টা যা বলবে তাই ভালো এবং খারাপ বিবেচিত হবে। ভাল বা খারাপ এখানে যুক্তির উপর নির্ভর করে না, এটা স্রষ্টার খেয়াল খুশির উপর নির্ভর করে। ধরুন স্রষ্টা যদি বলে আপনাকে শিশু/বাচ্চাদের বিয়ে করতে আপনি সেটা নির্দ্বিধায় করবেন, অথবা স্রষ্টা যদি আপনাকে তার অবিশ্বাসীদের হত্যা করতে বলে আপনি তা চোখ বন্ধ করে পালন করবেন, স্রষ্টা যদি বলে আপনার স্ত্রী গায়ে হাত তুলতে, আপনি তাই করবেন, এমনকি স্রষ্টা যদি আপনার নিজের সন্তানকে হত্যা/কুরবানি করতে বলে, আপনি তাও করবেন। এখানে দেখা যাচ্ছে নৈতিকতার ভিত্তিই আসলে ARBITRARY/স্বতঃস্ফূর্ত/উদ্দেশ্যহীন। স্রষ্টা যা নৈতিক বলবেন তাই নৈতিক হবে।

এখানে আরেকটি সমস্যা হচ্ছে আপনি যদি কোন নৈতিক কাজ করেন শুধুমাত্র স্রষ্টা বা কোন কিছুর “ভয়ে” বা “লোভে”, সেটা আপনার সত্যিকার নৈতিক কাজ করাকে বা তার উদ্দেশ্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।

William P. Alston writes, “since the standards of moral goodness are set by divine commands, to say that God is morally good is just to say that he obeys his own commands… that God practises what he preaches, whatever that might be;”

আবার যেহেতু বলা হচ্ছে নৈতিক সততা/সাধুতার মানদন্ড নির্ধারণ করা হয় স্রষ্টা দ্বারাই, তাই যদি বলা হয় স্রষ্টা নৈতিকভাবে ভাল/God is good, তাহলে এর অর্থ দাড়ায় স্রষ্টা নিজেই নিজের আদেশ মান্য করেন বা মানদণ্ড অনুসরন করেন বা অন্য কথায় উনি যা প্রচার করেন তা নিজেই অনুসরন করেন।

যেহেতু EUTHYPHRO DILEMMA  বড় রকমের একটি সমস্যা তৈরি করে,  তাই আস্তিকরা এর পিছনে যুগ যুগ ধরে বহু রকমের (কু)যুক্তি দিয়ে এসেছেন। যেহেতু আস্তিকরা স্রষ্টায় বিশ্বাস করেন তাই তারা EUTHYPHRO DILEMMA প্রথম অংশ নিয়ে বেশি উদ্বিগ্ন, কারণ স্রষ্টা সর্ব জ্ঞানী এবং উনি কোনো কিছুর মুখাপেক্ষী নয়। এছাড়া প্রথম অংশ এটিও সুস্পষ্ট করে যে ভালো বা খারাপ কাজ বোঝার জন্য স্রষ্টা প্রদত্ত নৈতিকতার দরকার নাই।

এখন এই নানাবিধ সমালোচনার ভিড়ে আস্তিকরা একটি পরিচিত উত্তর বা (কু)যুক্তি দেন এভাবে, “স্রষ্টা সব সময় ভালো এবং সব সময় ভাল কাজেরই আদেশ দেন, উনার চরিত্রই হচ্ছে ভাল”, (God is good).

এখন আমরা আলোচনা করব উপরোক্ত (কু)যুক্তিটির বহুবিধ সমস্যা নিয়ে।

খেয়াল করে দেখুন এখানে প্রথমেই একটি কুযুক্তি করা হয়ে গিয়েছে যাকে বলে BEGGING THE QUESTION,  কারণ তারা আগেই ধরে নিয়েছেন যে, স্রষ্টা “ভালো”। যদিও  তর্কের খাতিরে মেনে নেই  স্রষ্টা বলতে কিছু আছে,  সেই স্রষ্টার বৈশিষ্ট্য/গুন কিন্তু আরেকটি বড় প্রশ্ন। স্রষ্টা ভালো বা খারাপ সেটা আগে থেকেই বোঝার কোন উপায় নাই,  কারণ আপনি মানুষ হয়ে স্রষ্টার বৈশিষ্ট্য  জানতে পারেন না। (তবে হ্যাঁ, আপনাদের বহু পুরনো SPECIAL PLEADING কুযুক্তি দিয়ে বিশেষ গুনে গুণান্বিত স্রষ্টার সংজ্ঞা দিতে পারেন) স্রষ্টার অস্তিত্বই যেখানে একটি অপ্রমানিত এবং বিতর্কিত বিষয় সেখানে আপনি আপনার নিজের ইচ্ছামত স্রষ্টাকে গুণান্বিত করতেছেন। “স্রষ্টা ভাল” এমন বক্তব্য হচ্ছে A Priori এবং Argument from self-knowing/কুযুক্তি। স্রষ্টার অস্তিত্ব, তার গুন/বৈশিষ্ট্য সব আগে থেকে বানিয়ে/ধরে নিয়েই আপনারা উপরোক্ত কুযুক্তি উপস্থাপন করেছেন।

এই প্রসঙ্গে উল্লেখ করা যেতে পারে, একজন নামকরা ইসলামিক এপলজিস্ট (হামজা জরজিস) বলেছিলেন যে স্রষ্টাকে “ভালো” সংজ্ঞায়িত করার জন্য আপনাকে “ভাল” কি সেটা আগে জানতে হবে, এবং এর উত্তর হচ্ছে স্রষ্টা নিজেই  নির্ধারণ করেন “ভাল”।

মজার ব্যাপার দেখেন উনি ত্যানা প্যাঁচাতে গিয়ে নিজেই সেই আবার EUTHYPHRO DILEMMA এর দ্বিতীয় অংশের ফাঁদে পড়ে গিয়েছেন, যার অর্থ দাঁড়াচ্ছে, স্রষ্টা নিজেই “ভাল” বা “খারাপ” নির্ধারণ করেন।

এছাড়া খেয়াল করে দেখুন ভালো বা খারাপ বুঝার জন্য আমাদের একটি রেফারেন্স পয়েন্ট লাগে, প্রশ্ন হচ্ছে আপনার কাছে রেফারেন্স পয়েন্ট হিসেবে আরেকটি খারাপ স্রষ্টা আছে কি?  মানে কিসের ভিত্তিতে বা কিসের (অন্য স্রষ্টা) তুলনায় আপনি এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে আপনার স্রষ্টা সব সময় ভালো।

এমনকি “স্রষ্টা যে সবসময় ভাল” এটাও কোন পরম সত্য/ABSOLUTE TRUTH নয়, কারণ দুনিয়াতে বেশিরভাগ মানুষ আপনার স্রষ্টা বিশ্বাস করেন না এবং অন্য বিশাল একটি অংশ কোন স্রষ্টাই বিশ্বাস করেন না।

শুধু তাই না এই জবাব আসলে অনেকটা CIRCULAR REASONING, কারণ ভালো বা খারাপের যদি নিজস্ব কোনো বৈশিষ্ট্য/স্বাতন্ত্র্য না থাকে তাহলে স্রষ্টা নিজেও কি করে ভাল হউন। মানে অনেকটা- স্রষ্টাই ভাল, ভালই স্রষ্টা!!

ধরুন,  আমি যদি বলি আপনি “ভালো”,  এখানে “ভালো” একটি বৈশিষ্ট্য বা গুণ,  এটি একটি ভাবগত/ABSTRACT QUALITY,  এমন না যে এই গুন/ বৈশিষ্ট্য আপনি ছাড়া আর কারো সাথে  ব্যবহার করা যাবে না,  মানে হচ্ছে এই গুন/ বৈশিষ্ট্য আপনার উপর নির্ভর নয়,  আপনার অস্তিত্ব থাকুক বা না থাকুক, এই গুন/ বৈশিষ্ট্য থাকবেই এবং এটা  সম্পূর্ণ স্বনির্ভরশীল/স্বতন্ত্র/INDEPENDENT.

এছাড়া স্রষ্টা যদি সবসময় ভালো কাজ করেন তার মানে বোঝা যাচ্ছে,  ভালো কাজ স্রষ্টা মুখাপেক্ষী কোন বৈশিষ্ট্য নয়,  এটি একটি ইন্ডিপেন্ডেন্ট/স্বনির্ভর/স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য, যা ভালো কাজের সাথেই জড়িত। বা অন্য কথায় বলা যেতে পারে এমন নয় যে, স্রষ্টা বা কোনো এজেন্ট যদি না থাকে তাহলে ভালো কাজ খারাপ হয়ে যাবে, অথবা খারাপ কাজ ভালো হয়ে যাবে।  উদাহরণস্বরূপ বলা যেতে পারে  একটি ছোট নিষ্পাপ শিশুকে সম্পূর্ণ বিনা কারণে হত্যা করা যে খারাপ সেটা স্রষ্টার অস্তিত্ব বা  অনস্তিত্বের ওপর নির্ভর করে না, স্রষ্টার অস্তিত্ব না থাকলেও সেই নৈতিকতা মানুষের (এমনকি কিছুক্ষেত্রে ধর্মহীন প্রাণীদেরও) মাঝে থাকে, না থাকলেও থাকে। তাই দেখা যাচ্ছে নৈতিকতা স্রষ্টা মুখাপেক্ষী কোন বিষয়ই না।

একটি ছোট শিশুকে (যে ধর্ম বুঝে না) হাতে ছুরি ধরিয়ে আরেকটা শিশুকে আঘাত/হত্যা করতে বলা হলেও সে করবে না কারন এতটুকু নৈতিক জ্ঞান তার মধ্যে অন্তর্নিহিত। একটি মানব শিশুকে যদি আপনি কোন নৈতিক শিক্ষা নাও দেন, তাহলেও সে “নীতিবিগর্হিত/ IMMORAL” হলেও, কখনই একেবারে “AMORAL/ নীতিহীন” হবেই না। কারন মানুষের নৈতিকতা শিখার বা জানার অনেক উপায় আছে (পরিবার,পরিবেশ, সমাজ, রাষ্ট্র, নিজস্ব বিবেক,বুদ্ধি, জ্ঞান ইত্যাদি)।

এছাড়া আমরা ভালো করেই জানি যখন পৃথিবীতে ধর্মের (ধর্মীয় গ্রন্থের) আবির্ভাব হয়নি তখনও মানুষের মাঝে নৈতিকতা ছিল এবং ধর্মহীন পশুদের মধ্যেও নৈতিকতা আছে। যা খুব ভালোভাবে প্রমাণ করে স্রষ্টা এবং নৈতিকতা দুটো আলাদা বিষয় এবং  নৈতিকতা স্রষ্টা নির্ভর নয় (morality is independent of what God says)। স্রষ্টার নৈতিকতা এবং নৈতিকতার স্রষ্টা দুটো আলাদা জিনিস।

মজার ব্যাপার হচ্ছে,  একটু খেয়াল করে দেখুন, EUTHYPHRO DILEMMA  থেকে বাঁচার জন্য তারা যত রকমের যুক্তি দেন তা সবকিছুই ঘুরে ফিরে সেই একই দিকে চলে যায়, আর তা হচ্ছে  নৈতিকতা স্বনির্ভর/স্বতন্ত্র (morality is independent of god)।   স্রষ্টা যতই ভালো হোক, দিন শেষে  দেখা যায় স্রষ্টা ভালো কাজ করেন কারণ সেটি অন্তর্নিহিত ভাবেই একটি ভালো কাজ। লক্ষ্য করুন এখানে ভাল কাজের যে একটা “EXTERNAL VALUE” আছে সেটা স্রষ্টা নিজেই ব্যবহার করছেন। তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে ভালো বা খারাপ কাজ যদি স্রষ্টা নির্ভর না হয়, তাহলে নৈতিকতার জন্য স্রষ্টার উপর কেন ভরসা করতে হবে?

আবার খেয়াল করে দেখুন, আপনি যদি বলেন “স্রষ্টা ভাল”, তার মানে দাঁড়ায় “খারাপ” বলে আলাদা কিছু একটা আছে যা স্রষ্টার গুন/বৈশিষ্ট্যের বাইরে অবস্থান করে। অন্য অর্থে “খারাপ” এর নিজস্ব আলাদা অবস্থান/অস্তিত্ব আছে। অথবা এটাকে উল্টা করলে হয়, “স্রষ্টা খারাপ”, কিন্তু “ভাল” বলে কিছু একটা আলাদা অবস্থান করে।   আপনি যেভাবেই ধরেন এটা প্রমান করে “ভাল” বা “খারাপ” স্রষ্টার অস্তিত্বের বাইরে স্বনির্ভর/INDEPENDENT কিছু (External to and Independent of god)।

এছাড়া আরেকটি বড় প্রশ্ন সামনে এসে যায়,  আপনি যখন স্রষ্টার  নৈতিকতার কথা বলছেন,  তখন সেটি আসলে কোন স্রষ্টা? হাস্যকর এবং অযৌক্তিকভাবে আপনি দুনিয়ার ৪০০০+  স্রষ্টা থেকে শুধুমাত্র নিজের স্রষ্টা বেছে নিয়েছেন,  মানে আপনি আসলে যেকন “স্রষ্টার নৈতিকতা” নিয়ে কথা বলছেন না,  আপনি আপনার স্পেসিফিক/ সুনির্দিষ্ট  ধর্মের স্রষ্টার নৈতিকতা নিয়ে দাবী করতেছেন, যা একটি কুযুক্তি বা SPECIAL PLEADING FALLACY.  মজার ব্যাপার হচ্ছে আপনার মত একই দাবি  অন্য সবাই করে বসে আছেন। তাই আপনাদের মুসলমানদের DIVINE COMMAND THEORY দিয়ে “হয়ত” শুধুমাত্র মুসলমানদেরই নৈতিকতার সমস্যার সমাধান করা গেলেও যেতে পারে, কিন্তু পৃথিবীর সবার নয়।

যদিও পুরো ব্যাপারটা ফিলোসফিক্যাল, যার খণ্ডন বহু আগেই করা আছে,  কিন্তু আমরা এবার ইসলামের দৃষ্টিতে ব্যাপারটা ব্যাখ্যা করতে পারি। কারন নৈতিকতার বিতর্কে  মুসলিম আস্তিকগন মুখে উচ্চারণ না করলেও প্রথমেই মনে মনে ধরে নেন যে,  নৈতিকতা স্রষ্টা থেকে আসে না,  বড় নৈতিকতা “শুধুমাত্র ইসলামের আল্লাহ” থেকে আসে, এটা উনাদের যুক্তির প্রেমিসেই পরোক্ষভাবে থাকে, কিন্তু উনারা প্রথমেই বলেন না, আবার এটাই অন্য সব ধর্মাবলম্বীরাও একই ভাবে দাবী করেন। তাই দেখা যায় এখানেও আসলে উনারা BEGGEING THE QUESTION/কুযুক্তি করেছেন।

এছাড়া DIVINE COMMAND THEORY এর একটি Epistemological সমস্যাও আছে। যদি ধরেও নেই নৈতিকতা স্রষ্টার উপর নির্ভর করে,  তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে  ভালো এবং খারাপ আমরা তাহলে কি করে বুঝবো? এখন দেখা যাচ্ছে এর জন্য আমাদের হাতে একটি অপশনই আছে, তা হচ্ছে – স্রষ্টা প্রদত্ত জ্ঞান/REVELATION (যা উনি বিশেষ প্রক্রিয়ায় মানুষের কাছে পাঠিয়েছেন)

স্রষ্টা প্রদত্ত জ্ঞান একটি বিতর্কিত বিষয়, কারণ প্রথমত এটি ব্যাক্তিক/SUBJECTIVE,  এবং কি পদ্ধতিতে স্রষ্টা থেকে সেই জ্ঞান মানুষের কাছে এসেছে এবং সেটাও কতটুকু সঠিক বা তার সত্যতা, প্রমান ইত্যাদি খুবই বিতর্কিত এবং সবসময় অপ্রমানিত, এর পুরো ব্যাপারটাই বিশ্বাস নির্ভর। দ্বিতীয়ত যা আগেই বলা হয়েছে  দুনিয়াতে হাজার হাজার ধর্ম আছে,  তাই হাজার হাজার স্রষ্টাও আছে। আপনি যখন MORAL THEORY নিয়ে কথা বলছেন তখন সেটা শুধু আপনার নিজস্ব সম্প্রদায় বা ধর্মের মানুষের জন্যে নয়, এটা পুরো পৃথিবীর “সবার জন্যে সমানভাবে” প্রযোজ্য হতে হবে।

ধরুন কোন ব্যক্তি যদি দাবী করেন তাকে স্রষ্টা নির্দেশ দিয়েছে, কোন শিশুকে খুন করতে,  এখন আপনি কি করে প্রমাণ করবেন যে সত্যিই সেটা স্রষ্টা প্রদত্ত নির্দেশ নয়? (যেমন ইসলামের ইতিহাসে খিজির নামের এক ব্যাক্তি এক নিষ্পাপ শিশুকে হত্যা করে, এবং এতে তার কোন শাস্তিও হয়নি)। আপনি তাকে পাগল বলতে পারেন না, কারন ইসলামের ইতিহাসে নবী, রাসুলরাও এইসব দাবী করে এসেছিলেন, এবং মানুষ বিশ্বাস করেছিল বলেই ধর্ম এসেছে।

এছাড়া দেখা যায় নৈতিকতার  মৌলিক বিষয়েও (Abortion, Homesexuality, Death Penalty etc)  ভিন্ন ভিন্ন ধর্মে ভিন্ন ভিন্ন মত পাওয়া যায়, শুধু তাই না দেখা যায় একই ধর্মের  একই নৈতিকতার ইস্যুতে  ভিন্ন ভিন্ন আলেম/স্কলারদের  ভিন্ন ভিন্ন মত পাওয়া যায় (অথবা ভিন্ন ভিন্ন ফেরকা, দল, উপদলের ভিন্ন ভিন্ন মত থাকে)। যেমন সুন্নি মুসলমানরা  নৈতিকতা তো পরের কথা, অনেক ইসলামিক ফেরকা/দল/উপদল কে মুসলমান হিসেবেই গণ্য করেন না, উল্টো দিকে তারাও আবার সেইম।

এছাড়া শুধুমাত্র ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বিচার করতে গেলেও আমরা দেখতে পাই যে ইসলামে সময় এবং পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে অনেক কিছুই বার বার পরিবর্তন করা হয়েছে, এখন প্রশ্ন আসতে পারে যে নৈতিকতা যদি পরম/ABSOLUTE  কিছু হয়ে থাকে,  তাহলে স্রষ্টা  কিভাবে সময় বা অবস্থার প্রেক্ষিতে নৈতিকতা পরিবর্তন করেন? ইসলামের আল্লাহ এরকম বার বার পরিবর্তনই প্রমাণ করে যে  নৈতিকতা পরম/ABSOLUTE কোন কিছু নয়। শুধু তাই না কুরআনসহ দুনিয়ার কোন ধর্মগ্রন্থই নৈতিকতার একশভাগ সমাধান দিতে পারে না এবং সেটা সম্ভবও না।

যেহেতু আমরা ফিলোসোফি থেকে বের হয়ে এখন ইসলামিক দৃষ্টিতে আলোচনা করছি,  তাই চলুন কিছু ইসলামিক উদাহরণ দেওয়া যাক, যেখান থেকে আমরা ইসলামের স্রষ্টার কোন ABSOLUTE MORALITY  পাই কিনা তা দেখব।  আমরা জানি যে ইসলামিক স্রষ্টা যুদ্ধবন্দীদের সাথে সেক্স করাকে বৈধ এবং হালাল ঘোষণা করে গিয়েছেন, এবং একই সাথে উনি দাসীদের সাথে সেক্স করার অনুমোদনও দিয়ে গিয়েছিলেন এবং নিজের স্ত্রীকে প্রহার করার অনুমোদনও দিয়েছেন।  খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, উনি এইসব আইন/প্রথা বাতিল ঘোষণা করে যাননি। যেকোনো সময় ইসলামিক রাষ্ট্র কায়েম হলে এসব আইন আবার বলবৎ হবে।  এখন আপনি কি  যুদ্ধবন্দীদের সাথে সেক্স করা, দাসীদের সাথে সেক্স করাকে, স্ত্রীকে প্রহার করা, এমনকি দৈনিক পাঁচবার আপনাকে তার প্রার্থনা করতে বাধ্য করা ইত্যাদিকে ABSOLUTE MORAL ধরে নিতে পারেন? শুধুমাত্র ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বলতে গেলে এরকম বহু বহু ইসলামের স্রষ্টা প্রদত্ত আইন বা নির্দেশ বলা যাবে যা কোনোভাবেই এই যমানায় (হাজার বছর পরে তো দুরের কথা) কেউ পালন করতে পারবে না।

DIVINE COMMAND THEORY এর নানা রকমের সমস্যা থেকে উত্তরনের জন্যে আস্তিকরা অনেক (কু)যুক্তি তৈরি করেছেন, এমনকি এর নতুন ভার্সনও দিয়েছেন, কিন্তু সবগুলাতেই একই সমস্যা রয়ে গেছে। যখনই আস্তিকদের কোন এইরকমের থিওরিতে সমস্যা হয়, উনারা নতুন ভার্সন দেন। কিন্তু মুল সমস্যা থেকে কোন উত্তরন হয় না।

ধন্যবাদ
বেঙ্গল আরজ

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published.