ঈশ্বরের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে (একটি সত‍্যের সন্ধানে ইবুক)

আমাদের ক্ষুধার্ত পেটে অকল্পনীয় ক্ষুধা রেখেই হরদম কল্পিত ঈশ্বরের নাম নিয়ে মুখে ফেণা তুলে ফেলছি। অথচ কল্পিত ঈশ্বর আমাদের এই ক্ষুধা নিবারণ করতে পারবে কিনা তা আমাদের জানা নেই। ক্ষুধার আগুন জাহান্নামের আগুনের মত আমাদের পুড়িয়ে  চলছে। আস্তিক-নাস্তিক নির্বিশেষে সবার ওপর চলে এই অত্যাচার। মৃত্যুর আগেই যে খোদা এই নির্মমতা থেকে মুক্ত  করতে পারে না, মৃত্যুর পর সে কিছু দিতে পারে বলে বিশ্বাস করা কঠিন৷ আমরা যদিও  বিশ্বাসের অতল সাগরে ডুবে ডুবে জল খেয়ে যাচ্ছি প্রতিনিয়ত। আমরা প্রশ্ন করতে ভুলে গেছি। আমরা কেন বিচার করে দেখি না যে, ঈশ্বরের নামে আমরা প্রতারণার শিকার হচ্ছি কিনা। 

যে জগতে আমরা বাস করছি তাতে শান্তিতে দুই দণ্ড বসার সুযোগ  নেই। চারিদিকে যে পাশবিকতা, প্রতারণা  ও মিথ্যাচার চলছে তার বিরুদ্ধে সুকঠিন প্রতিবাদের দরকার। কিন্তু  তার আগে বিচার করা দরকার এই জগতের পরিকল্পনাকারী ঈশ্বর নিশ্চয়ই বোকা কিংবা পাগল। এত কলহপ্রিয় হওয়া  কিভাবে সম্ভব? 

ধর্ম মানুষের কল্যাণের কথা বলে এবং প্রতিটি ধর্মের শুরুটা মানুষের মুক্তির লড়াই দিয়েই। কিন্তু কালের নিয়মে শোষিতের প্রতিবাদরূপী ধর্মকে গ্রাস করে শোষকেরা। তারপর থেকে ধর্মের সর্বেসর্বা  তারাই। ছলে-বলে-কৌশলে তাদের আজ্ঞাবহ প্রতিনিধিদেরই বসিয়ে দেওয়া হয় খোদার সাথে মানুষের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে, যদিও এই মধ্যস্থতাকারীর কি দরকার ধর্মে তাই লাখ টাকার প্রশ্ন। প্রশ্ন যাই হোক উত্তর একটাই, নীতি-অনীতি-দুর্নীতি শাসক ও তার প্রতিনিধিদের   অঙ্গুলী  হেলনের উপরই নির্ভরশীল। তাদের ইচ্ছাই ধর্ম, অনিচ্ছাই অধর্ম।  এই অনাচার আর কতদিন? ধর্ম ধর্মের জায়গায় থাকুক, গায়ের জোরে কেউ তাকে উচ্ছেদ করতে যাচ্ছেনা, যাবেনা। কিন্তু এই ধর্মের দালালদের উচ্ছেদ করা ছাড়া মানুষের বিন্দুমাত্র কল্যাণ সম্ভব নয়। সবই ঠিকাছে। কিন্তু ধর্মের কেন্দ্রে যে ঈশ্বর আছে সে-ই পুরো বেমানান। কারণ গোটা ব্যাপারটা আমাদের মাথায় থাকলেও তাঁর মাথায় নেই। সরল কোনও সমাধান সে বের করতে অক্ষম।  তাহলে দেখা যাচ্ছে সমস্যা থেকেই যাচ্ছে। 
আমার এই প্রয়াস জনগণের ঘুম ভাঙানোর প্র‍য়াস। যারা জেগে থেকে ঘুমায় তাদের ঘুম ভাঙানোর কিছুটা শক্ত কিন্তু অসম্ভব নয়। কবিতাগুলো ঘুম ভাঙানোর কবিতা আকারে পড়া দরকার। পড়া দরকার একটা জিজ্ঞাসা হিসেবে, ভাবনা হিসেবে ।  কিন্তু ক’জন সেভাবে পড়বে তা ভাবনার ব্যাপার। কারণ অনুভূতিকে খুব বেশি আঘাত লাগছে ইদানীং। চিকিৎসা দরকার! 
ধন্যবাদ সকলকে।

 

ঈশ্বরের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে

সাদ্দাম হোসাইন

সত্যের সন্ধানে ইবুক

বইটি পড়তে অনুগ্রহ করে নিচের লিংকে ক্লিক করুন, ধন্যবাদ।

ঈশ্বরের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *