বঙ্গবন্ধু গবেষণার হালচাল!- আরিফ রহমান

বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণী বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের জন্মদিন কবে আপনারা কি জানেন?

১৯৩০ সালের ৮ আগস্ট গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অফিসিয়াল ওয়েব সাইট, ফেসবুক পেইজ এবং প্রতিটা সংবাদপত্রে এদিন আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে প্রেস রিলিজ পাঠানো হয়। বেগম মুজিবের জন্ম যে ১৯৩০ সালে সেটা একটা স্বতঃসিদ্ধ সত্য।

আজ বঙ্গবন্ধুর লেখা আমার দেখা নয়া চীন বইটি পড়তে গিয়ে দেখলাম বঙ্গবন্ধুর লেখা প্রতিটি বইয়ের মতই এই বইয়ের শেষেও লেখকের অথেন্টিসিটি নষ্ট করে বঙ্গবন্ধুর জীবনী জুড়ে দেওয়া হয়েছে। আমি এই কাজটির ঘোর বিরোধী।

কারণ মাথায় রাখতে হবে স্বয়ং বঙ্গবন্ধুর লেখা বই থেকে যখন আমি রেফারেন্স দিচ্ছি তখন এর আগের সমস্ত বইপত্রে কি আছে সেটা খারিজ হয়ে যায়! তাই বঙ্গবন্ধুর বইয়ের শেষে যদি কোন লেজ লাগিয়ে দেওয়া হয় এবং সেখানে কোন ভুল তথ্য বা বিতর্কিত তথ্য এসে পড়ে এবং কেউ যদি সেই তথ্য কোট করে, তাহলে দায় এসে পড়ে বঙ্গবন্ধুর ঘাড়ে! আমি অসমাপ্ত আত্মজীবনীর শেষেও এই কাজটি হতে দেখেছি যার কোন দরকার ছিল না!

আজ দেখি আমার দেখা নয়া চীন গ্রন্থের ২০,০০০ কপির প্রথম সংস্করণের ১২৫ নাম্বার পৃষ্ঠায় লেখা আছে বঙ্গবন্ধু নাকি ১৯৩০ সালে তাঁর চাচাতো বোন বেগম ফজিলাতুননেছার সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন!

২.

কি ভয়ংকর ভুল! চিন্তা করতে পারেন?

বড় হরফ, বিরাট স্পেস আর মোটা কাগজ দিয়ে এই ছোট পান্ডুলিপিটাকে বাড়িয়ে করা হয়েছে ২০০ পৃষ্ঠা। বইটায় বঙ্গবন্ধুর কথা শুরু হয়েছে ১৯ তম পৃষ্ঠা থেকে আর শেষ হয়েছে ১২৩ নাম্বার পৃষ্ঠায়। স্পেস আর মার্জিন স্বাভাবিক রাখলে বঙ্গবন্ধুর মূল পান্ডুলিপি ৮০ পৃষ্ঠায় সুন্দরভাবে আঁটানো যেতো।

এই বইটির কাজ করেছে বাংলা একাডেমী!
ভূমিকা লিখেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা!

নিশ্চয়ই এই বই সম্পাদনার সাথে যারা ছিলেন তারা মোটা পয়সা কামাই করেছেন! বইটার গায়ে লেখা দাম কত জানেন?

৪০০/-

বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে এসব তো চলছে রাষ্ট্রীয় কারবার। সিক্রেট ডকুমেন্টের অবস্থা নিয়ে আগেও লিখেছি। সেটাও প্রধানমন্ত্রীর নামে সেল হচ্ছে। বেসরকারি কাজকর্মের অবস্থা তো আরও খারাপ। কোন নজরদারি নাই।

নজরদারি যারা করবেন তারাই তো বেগম মুজিবের জন্মসালে বিয়ে দিয়ে দিচ্ছেন!

৩.

বঙ্গবন্ধুকে ভালোবেসে কাজ করি, সরকারের অপকর্মের সমালোচনা করি দেখে আমাদের কাজকর্মকে পেট্রোনাইজ করা হয় না। যারা সরকারের ভালো-মন্দ সবকিছুতেই জি হুজুর জি হুজুর করেন তাদের কাজকর্মের অবস্থা দেখলে লজ্জা লাগে। আরও লজ্জা লাগে ভুল ধরিয়ে দেওয়ার পরেও যখন কোন ব্যবস্থা না নেওয়া হয়।

বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটূক্তি করলে দুই ঘন্টায় এরেস্ট হয়ে যায় কিন্তু বঙ্গবন্ধুর নিজের লেখা বইগুলোর কাজে যারা অবহেলা করছে, যারা বারবার ভুল করছে, তাদের বেলায় কোন শাস্তি নেই কেন?

৪.

স্বৈরশাসন, দুঃশাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগ্রাম পরিচালনা করার শিক্ষা, মত প্রকাশের স্বাধীনতার জন্য আওয়াজ তুলে জেলে যাওয়ার প্রেরণা আমরা বঙ্গবন্ধুর বইগুলো থেকে পাই। আমার কাছে এই বইগুলো এই গোটা সরকারের চাইতে গুরুত্বপূর্ণ। এগুলো অরিজিনালিটি রক্ষা করা আমি মনে করি আওয়ামী লীগের দায়িত্ব।

যেই মুজিব জনতার
সেই মুজিব মরে নাই

আমাদের কাছে জনতার মুজিবকে কোন ধান্দাবাজি ছাড়া তুলে ধরা হোক!

বিঃদ্রঃ শুনেছি বঙ্গবন্ধুর আরও কিছু ডায়রী ক্রমান্বয়ে প্রকাশিত হবে। আমার জোর দাবী ঐ বইগুলোতে যেন শুধু শেখ হাসিনার লেখা ভূমিকা ছাড়া আর একটা লাইনও যুক্ত না করা হয়।

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *