দায়িত্বশীল নাগরিক!

দৈনন্দিন জীবনে কীভাবে চললে আমি আমার দেশের একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হয়ে উঠতে পারি!

সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত মতামতের ওপর ভিত্তি করে এই উত্তরটি লেখা। সবগুলো যে আমি সবসময় মেনে চলতে পারি তা ঠিক নয়, কিন্তু চেষ্টা যে অবশ্যই করি তা নির্দ্বিধায় বলতে পারি।

Charity begins at home. তাই নিজের বাড়ি থেকেই না হয় শুরু করা যাক। ব্রাশ করার সময় অথবা অন্য যে কোনো কারণে কল চালিয়ে রেখে অযথা জল অপচয় করা উচিত নয়। পাম্প চালিয়ে রেখে একটু খেয়াল রাখা উচিত যাতে ওভার ফ্লো না হয়। সবজি, মাছ-মাংস অথবা চাল ডাল ধুয়ে জলটা ফেলে না দিয়ে গাছের গোড়ায় আমরা ব্যবহার করতে পারি। সম্ভব হলে বৃষ্টির জল সংরক্ষণ করে তা আমরা আমাদের দৈনন্দিন কিছু কাজেও ব্যবহার করতে পারি। রাজস্থান বা দক্ষিণ ভারত অথবা পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে জল সংকট যে ভয়াবহ আকার ধারণ করছে, তার স্বার্থেই না হয় আমরা একটু কৃচ্ছসাধন করলাম।

একটা দুটো হলেও, কিছু চারা গাছ আজ আমার এক চিলতে বারান্দায় রাখা টবে লাগালাম। বিন্দুতে বিন্দুতেই একদিন ঠিক সিন্ধু জন্মাবে।

ঘরের অবর্জনা গুলোকে সঠিক ভাবে সঠিক পদ্ধতিতে নিক্ষেপ করা অবশ্যই উচিত। কিছু কিছু আবর্জনা (আলু অথবা অন্যান্য সবজির খোসা) ডিকম্পোজিশনের মাধ্যমে গাছের সার হিসাবে ব্যবহারযোগ্য করে তুলতে পারি। আবর্জনার সঠিক নিক্ষেপ না হলে তার সুদূরপ্রসারী ফলাফল যে কী হতে পারি তার সম্পর্কে ধারণা আশা করি সকলেরই আছে।

অকারণে বাড়ির লাইট, ফ্যান জ্বালিয়ে রেখে বিদ্যুৎ অপচয় করবেন না। নিজের জন্য না হলেও পরবর্তী প্রজন্মের কথাটা একটু মাথায় রেখে, প্রয়োজন না হলে সুইচটা অফ করুন।

বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় একটু কষ্ট করে না হয় একটা ব্যাগ নিয়ে বেরোন। দোকানদার প্লাস্টিকের প্যাকেট দিতে চাইলেও প্রত্যাখ্যান তো করা যেতেই পারি। নিজের কাছে নিজেই হিরো সাজার এর থেকে সহজ পদ্ধতি আর দ্বিতীয়টি পাবেন না কিন্তু।

মানছি, আপনার না হয় একটা হারলে ডেভিডসন আছে। না হয় নিতান্ত গরিবের এনফিল্ড আছে। কিন্তু তাই বলে ওরকম অকারণ শব্দ তুলে নিজেকে রাজা মনে করে রাস্তা দিয়ে উড়ে যাওয়ার কোনো মানে আছে? আরে মশাই, আপনার জীবনের দাম না থাকতে পারে, আসে-পাশের মানুষের তো আছে।

গাড়ির স্টিয়ারিং হাতে নিয়ে অযথা হর্ন বাজানোর থেকে একটু বিরত থাকুন। বিশ্বাস করুন হর্ন বাজানোর সাথে গন্তব্যস্থলে আগে পৌঁছানোর কোনো সম্পর্ক এখনো প্রমাণিত হয় নি। যতদিন না সেই সূত্র আবিষ্কার হচ্ছে, একটু অভ্যেস করুন।

নিজের জীবনের যাবতীয় হতাশা, উদ্বেগ অথবা আদর্শের আতিশয্যে আইন হাত তুলে নিয়ে moral policing বা “মার ব্যাটা কে মার” বলে উত্তেজিত জনতার মধ্যে আর ধুনোর ধোঁয়া ছড়াবেন না। যার যা কাজ তাকে তাই করতে দিন না। আইন রক্ষকদের জন্য দেশের প্রশাসন অনেক টাকা খরচ করেন। আপনি কেন খামোকা তাদের মধ্যে হীনমন্যতা তৈরি করবেন বলুন তো।

সাধ্যমত মানুষকে একটু সাহায্য করুন। টাকা দিয়ে না হোক, কোনো গরিব শিশু কে একবেলা খেতে দিলেন অথবা পাশের বাড়ির অসুস্থ দিদার না হয় একবার খোঁজ নিলেন। না, তাদের দয়া বা করুণা করার জন্য নয়। মানুষের প্রতি মানুষের প্রতি কর্তব্য আর ভালোবাসা থেকে এইটুকু সামান্য কাজ করা যেতেই পারে।

পথের কুকুর বিড়াল বা অন্যান্য প্রাণীগুলোকে খেতে দিতে না পারেন, অযথা ওদের লেজে কালিপটকা বেঁধে বা দোলের দিনে রং মাখিয়ে ওদের বিরক্ত করবেন না। পৃথিবীটা তো আমাদের একার নয়। সমান অধিকার ওদেরও।

ভাবতে গেলে হয়তো এই লিস্ট শেষ হবে না। আদর্শ মানুষ হওয়ার তো কোনো শেষ নেই। কেউ পারফেক্টও হয় না। কিন্তু “আমার কী, যা হচ্ছে হোক” অথবা “কেউ যখন মানছে না, আমার মেনে কী লাভ” এই মানসিকতা থেকে বেরিয়ে এসে যদি এক পা, এক পা করে বাড়ি থেকেই শুরু করা যায়, কেমন হবে? চাঁদের পাহাড়টার খুব কাছে যে আপনি কখন এসে পড়েছেন, নিজেই হয়তো বুঝতে পারবেন না।

ধন্যবাদ মাইকেল হালদার

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *