সিরিজ: RED HEAT প্রথম পর্ব (করোনা নিয়ে চীনের বিরুদ্ধে ইঙ্গো-মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী প্রপাগান্ডার জবাব এবং নতুন এক বিশ্বের প্রারম্ভিকার আশ্বাস)।

মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের এক মেরু প্রভাবিত বিশ্বের স্বপ্ন বিগত হয়েছে অনেক দিন হল। বহুমেরুকরনের ভেতর দিয়ে ক্ষমতার ভর কেন্দ্র সরে যাচ্ছে খুব দ্রুত এক সময়ের “sick man of Asia” হিসাবে পরিচিত চীনের দিকে।
যেই নয়া-উদারনীতিবাদী দর্শন পুঁজিবাদের পক্ষে এক ধরনের ধূর্ত ব্যক্তি স্বাতন্ত্র বোধের সাফাই তৈরি করে অন্তসারে স্ববিরোধী এই অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে শাশ্বত হিসাবে জনমানুষের মনে গ্রথিত করতে চেয়ে ছিল তা যে কতটুকু ব্যর্থ প্রয়াস তা দ্রুততার সাথে স্পষ্ট হচ্ছিল 2007 সালের এর বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার পর থেকেই। কিন্তু করোনা ভাইরাস জনিত মহামারী যে মানুষের চিন্তা জগতে নয়া-উদারনীতিবাদ বিরোধী একটি “Hyper thought dive” নিয়ে আসার পর্যাপ্ত রসদ যোগান দিতে পারে সেটা অনেক বিশ্বনেতার চিন্তার বাইরে ছিল।
করোনা মহামারীর প্রাথমিক পর্যায়ে পশ্চিমা বিশ্বের কতিপয় রাষ্ট্রপ্রধানদের করোনা মোকাবেলায় তাদের পর্যাপ্ত প্রতিরক্ষা আছে এই ধরনের মিথ্যা বক্তব্য গুলোই প্রমান করে পরবর্তী করোনা আক্রান্ত হওয়ার পরিস্থিতি সামাল দিতে না পারার ব্যর্থতায় হঠাত করে চীনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার জন্য পশ্চিমা শক্তি সমুহের ঐকমতের যৌক্তিক ভিত্তি কতুটুকু নাজুক,যেইখানে জানুয়ারী মাসেও চীনের প্রশংসায় ট্রাম্প সহ অনেক পশ্চিমের নেতাই প্রশংসায় পন্চমুখ ছিলেন।
ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য,যেইখানে চীনকে তিনি স্বচ্ছতার অভাবের জন্য প্রশ্নবিদ্ধ করছেন,সেই ট্রাম্পেরই 24 এ জানুয়ারীর টুইট বার্তাটি দেখুন।
“China has been working very hard to contain corona virus.The United state greatly appreciates their efforts and trans-piracy. It will all work out will.In particular,on behalf of American people,I want to thank president XI.”
তাহলে বিষয়টা কি এমন যে চীনের ভেতর ঢুকে নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক কোন সংগঠন সম্প্রতি কোন তদন্ত করেছে যার সাপেক্ষে প্রমানিত হয়েছে যে চীন তথ্য গোপন করেছে,বা সঠিক সময়ে বহির্বিশ্বকে করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত তথ্য দেয়ার বিষয়টি চীনের সক্ষমতার মধ্যে থাকলেও চীন ইচ্ছা করে কালক্ষেপন করে বিশ্বকে বিপদে ফেলেছে?
আর সেই তদন্তের রিপোর্ট হাতে নিয়েই পশ্চিমা বিশ্বের নেতারা চীনকে প্রথম পর্যায়ে প্রশংসার প্রায়াশ্চিত্ত করবার জন্য পর্যায়ক্রমে দোষারোপ করে যাচ্ছে।
না,এমন কোন তদন্ত হয় নি।তাহলে?
প্রথম থেকেই পশ্চিমা গনমাধ্যম গুলো যে ঘটনাটি সত্য-মিথ্যা মিশিয়ে বিকৃত করে উপস্থাপন করতে চেয়ছিলো সেটি মূলত এমন ” একজন ডাক্তার করোনা ভাইরাসের বিষয়টি বহির্বিশ্বে প্রকাশ করে দিতে চাইলে তাকে সরকার আটক করে,এবং পরে করোনাতেই তার মৃত্যু হয়,চীনা সরকার চাচ্ছিলো না এইটা বহির্বিশ্বে জানাজানি হোক”
কিন্তু প্রকৃত ঘটনাটা এমন ছিলোই না,এইটা বহুবার চীন স্পষ্ট করেছে।
The New York times ও Asia review এর দুইটি প্রতিবেদনে সেটি প্রমান সহ উপস্থাপিত হয়েছে।
সংক্ষেপে মূল ঘটনাটা বলা যাক।
ড: ওয়েন লিয়াং ছিলেন একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞ,তিনি মহামারী এবং রোগ নিয়ন্ত্রন নিয়ে চিকিৎসা বিজ্ঞানের যে বিভাগটির উপর যারা অধ্যায়ন করেন যাদের বলে Epidemiologist,তিনি তা ছিলেন না।তিনি করোনাকে ভুল ভাবে চিহ্নিত করে এটিকে SARS OUTBREAK হিসাবে তার নিজের সহকর্মীদের একটি “WE CHAT” গ্রুপে শেয়ার করেন।পুলিশ জানুয়ারীর তিন তারিখে সেই ম্যাসেজের স্কিনশট দেখিয়ে সাবধান করার জন্য কেবল তাকে থানায় ডাকে,এবং কোন পূর্নাঙ্গ গবেষনা ছাড়াই তার উপরোস্থ অথোরিটিকে না জানিয়ে চ্যাট গ্রুপে “সার্চ মহামারী ছড়িয়ে পড়েছে” এই ধরনের বক্তব্য ছড়িয়ে পড়লে জনগনের মধ্যে ভয়ের সন্চার হতে পারে,এই বলে তার কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়।
আর এই ঘটনাই পশ্চিমা গনমাধ্যম প্রচার করে করোনা সম্পর্কে বিশ্ববাসীকে আগেই সতর্ক করার জন্য নাকি ঐ ডাক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়।যেইখানে মজার বিষয় হল সে জানতোই না ভাইরাসটি করোনা কিনা!
এই বিষয়ে বিস্তারিত জানতে নিচের লিঙ্কে ফেব্রুয়ারির সাত তারিখের “Wall street journal” এর প্রতিবেদনটি দেখুন।
এইবার আসি এক ভিন্ন পটেলিখায়,ডক্টর লিকে পুলিশের সতর্ক করার আগেই ঘটে আরেকটি ঘটনা,বেশির ভাগ পশ্চিমা সংবাদ মাধ্যম এখন সেই ঘটনাটি চেপে যায়।
2019 এর ডিসেম্বরের 26 তারিখ, Zhang Jixian যিনি হলন
Director of respiratory and critical care at Hubei Provincial Hospital, তিনি লক্ষ করেন় যে তাঁর ইউনিটের চারজন রোগী সন্দেহভাজন নিউমোনিয়ার জন্য চিকিতসা চেয়েছিলেন – একজন বয়স্ক দম্পতি, তাদের ছেলে এবং যে ব্যক্তি সামুদ্রিক খাবারের বাজার থেকে এসেছিলেন – তাদের সবার মধ্যেই অনুরূপ এবং অস্বাভাবিক কিছু লক্ষন ছিল,যেটা সাধারন নিউমোনিআতে দেখা যায় না, যার ফলে তিনি বিশ্বাস করে ছিলেন যে তারা অন্য কিছুতে ভুগছেন। । পরের দিন, ঝাং – যিনি 2003 এর SARS প্রাদুর্ভাবের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন – এটি তার হাসপাতালের প্রধানকে জানিয়েছিলেন। পরের দুই দিনের মধ্যে, এই তথ্য এবং রোগীদের নমুনা গুলো রোগ নিয়ন্ত্রণের প্রদেশ কেন্দ্রগুলিতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল।
লি তার ওয়েচ্যাট গ্রুপে এই স্ক্রিনশটগুলি ভাগ করে নেওয়ার আগেই এই সমস্ত ঘটেছিল।
তাহলে এইখানে তার প্রচেষ্টার জন্য কি Zhang Jixian কে শাস্তি দেওয়া হয়েছিলো?
না,বরং আন্চলিক সরকার সঠিক প্রক্রিয়া মেনে উপরস্থ কর্মকর্তাদের কাছে সঠিক তথ্য সরবরাহ করার কারনে তাকে পুরুস্কৃত করা হয়।
পশ্চিমা পাঁচটি সংবাদ মাধ্যমে সার্ভে করে দেখা যায় লি কে গ্রেফতার করা হয়েছে এই মিথ্যা সংবাদটি প্রচার করা হয় 44 বার আর সেইখানে ঝাং এর সঠিক ভাবে তথ্য উপস্থাপন করার বিষয়টি একবারো উল্লেখ করা হয় নি।
সত্যতা জানতে ফেব্রুয়ারি মাসের ছয় তারিখের Global time published এর রিপোর্রটি দেখুন যেইখানে করোনার ছড়ানোর আগেই ঐ ভাইরাস বিষয়ে উপরমহলকে জানানোর জন্য উহানের ডক্টর ঝাংকে কে যে পুরুস্কৃত করা হয়েছে তার উল্লেখ ছিলো।
এইবার আসা যাক আরেকটি অভিযোগের বিষয়ে,সেটি হলো “চীন সামর্থ্য থাকার পরেও নিজেই পরিস্থিতি সামাল দিতে পারবে এই চিন্তা করে নাকি বহির্বিশ্বকে তথ্য দিতে দেরী করেছে।দাবিটি কতটুকু সত্য সেটি আমি এইখানে চুলচেড়া বিশ্লেষন করে দেখাবো।
The globe and mile নিউসপোর্টালটিতে উল্লেখ করা হয় করোনা ভাইরাস চিহ্নিত হবার প্রায় চল্লিশ দিন পর চীন সরকার পদক্ষেপ নেয়া শুরু করে।এটি এগারোই মার্চ এ প্রকাশিত সংবাদ।লিঙ্কটি দেখুন।
মার্চ এর একুশ তারিখে Toronto Sun থেকেও একই সংবাদ প্রচার করা হয়।
কিন্তু এর সত্যতা কতটুকু?
 ডক্টর ঝাং যেদিন চারজন রোগীর মধ্যে অদ্ভুত লক্ষন গুলো দেখেছিলেন,তার কিছুদিন পরেই ডিসেম্বরের 31 তারিখে Wuhan Municipal Health Commission এই অজানা রোগটির বিষয়টি নথিভুক্ত করে পাবলিক নোটিস দেয়া হয়।
নোটিসটি দেখুন।বোঝার জন্য গুগল ট্রান্সলেটর ব্যবহার করুন।
এই নোটিসটি সবার জন্ম উন্মুক্ত করে সর্বত্র রাষ্ট্রীয় ভাবে প্রচার করা হয়।ঠিক ঐদিনই চীনের স্বাস্থ মন্ত্রনালয় WHO কে বিষয়টি জানায়। WHO জানুয়ারীর পাঁচ তারিখে সেই বিষয়ে একটি রিপোর্ট  তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রচার করে।
WHO এর প্রতিবেদনটি দেখুন।
অর্থাত নমুনা পরীক্ষার ফলাফল,পাবলিক নোটিস দিয়ে জনগনকে জানানো এবং WHO কে চীনা কতৃপক্ষের তথ্য দেয়া হয়েছিলো প্রায় একই সময়ে।
জানুয়ারীর এক তারিখেই উহানের সেই বাজারটি বন্ধ করে দেয়া হয়েছিলো। জানুয়ারীর বিশ তারিখে WHO এর প্রতিবেদনটিতে 31th ডিসেম্বর থেকে 20th জানুয়ারী অবধি চীনের পদক্ষেপ গুলো উল্লেখ আছে।
Data as reported by: 20 January 2020  SUMMARY Event highlights from 31 December 2019 to 20 January 2020:
• On 31 December 2019, the WHO China Country Office was informed of cases of pneumonia unknown etiology (unknown cause) detected in Wuhan City, Hubei Province of China. From 31 December 2019 through 3 January 2020, a total of 44 case-patients with pneumonia of unknown etiology were reported to WHO by the national authorities in China. During this reported period, the causal agent was not identified.
• On 11 and 12 January 2020, WHO received further detailed information from the National Health Commission China that the outbreak is associated with exposures in one seafood market in Wuhan City. • The Chinese authorities identified a new type of corona virus, which was isolated on 7 January 2020. • On 12 January 2020, China shared the genetic sequence of the novel corona virus for countries to use in developing specific diagnostic kits.
• On 13 January 2020, the Ministry of Public Health, Thailand reported the first imported case of lab-confirmed novel corona virus (2019-nCoV) from Wuhan, Hubei Province, China.
• On 15 January 2020, the Ministry of Health, Labour and Welfare, Japan (MHLW) reported an imported case of laboratory-confirmed 2019-novel corona virus (2019-nCoV) from Wuhan, Hubei Province, China.
• On 20 January 2020, National IHR Focal Point (NFP) for Republic of Korea reported the first case of novel corona virus in the Republic of Korea.
এইখানে লক্ষ করুন জানুয়ারীর সাত তারিখেই চায়নার কতৃপক্ষ ভাইরাসটিকে নতুন প্রজাতির করোনা ভাইরাস হিসাবে সনাক্ত করে।কিন্তু এর আগ থেকেই WHO কে চায়না পরিস্থিতির ব্যাপারে তথ্য দিয়ে আসছিলো,কোন কিছুই গোপন করে নি।জানুয়ারীর নয় তারিখে করোনায় প্রথম ব্যক্তিটি মারা যাবার দশ দিন আগে থেকেই WHO কে সব জানিয়ে আসছিলো চীন। SARS মহামারীর অভিজ্ঞতার কারনেই চীন খুবই দ্রুত বিষয়টাকে বহির্বিশ্বে প্রচার করেছে,দেরি করার কোন যৌক্তিক কারন চীনের নাই।পরিস্থিতি নিজেরা নিজেরা সামাল দিতে পারবে এই চিন্তা করলে চীন অন্তত প্রথম রোগীর মৃত্যুর পর WHO কে বিষয়টি জানাতো।কিন্তু চীন সেটি জানিয়েছে করোনায় প্রথম মৃত্যুর দশ দিন আগেই।
তাহলে The globe and mail এবং Toronto sun থেকে যে দাবি করা হল করোনা ভাইরাস সনাক্ত হবার প্রায় বিশ দিন পর চীন পদক্ষেপ নেয়া শুরু করে,সেইটার ভিত্তিটা কি?
করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত প্রথম রোগীর মৃত্যুর আগেই উহানের ভিজে বাজারটি বন্ধ করা হয়।জানুয়ারীর বারো তারিখ চীন বিশ্বের অন্যান্য অনেক দেশের সাথে ভাইরাসটির জেনিটিক সিকোয়েন্স শেয়ার করে।এর মাত্র দুইদিন পর WHO  তার রিপোর্টে বলে “মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমনের কোন পরিষ্কার প্রমান পাওয়া যায়নি”।
এখন এই যে বারো তারিখ পর্যন্ত “পরিষ্কার প্রমান পাওয়া যায় নি” এইটা কি মিথ্যে নাকি সত্য?
প্রকৃতপক্ষে তখনও প্রমান ছিলো না,ধারনা করা হচ্ছিলো এটি পশু থেকেই মানুষে আসে।কিন্তু ঐ ধারনার ভিত্তিতেই চীন সরকার পদক্ষেপ নিয়েছিল,এবং সমস্য তথ্য WHO কে জানিয়েছিলো।মানুষ থেকে মানুষে ছড়াতে পারে সন্দেহটি প্রমানিত হয় এক সপ্তাহ পরে।জানুয়ারীর সতেরো তারিখে দ্বিতীয় এবং বিশ তারিখে তৃতীয় মৃত্যুটি ঘটে।আর বিশ তারিখেই চায়না রাষ্ট্রীয় ভাবে মানুষ থেকে মানুষে করোনা আক্রান্ত হয় সেই গবেষনার রিপোর্ট পেয়ে সেটি ঘোষোনা করে।এর আগে সত্যিকার অর্থেই WHO এর রিপোর্ট অনুযায়ী সেটার কোন প্রমান ছিলোই না।কারন ভাইরাসটি নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা তখনও চলছিলো।কিন্তু তার আগেই চীন সমস্ত আপডেট 31th ডিসেম্বর থেকেই WHO কে দিয়ে আসছিলো। জানুয়ারির বিশ তারিখে যখন ঘোষনাটি আসলো তখন সেটি অনেক পশ্চিমা গনমাধ্যম যেমন “The New York times” ও “Washington post” সেটি নিয়ে রিপোর্ট করে।এরা কেউই তখন দেরী করে চীন তথ্য জানিয়েছে সেই দাবি করেনি,এখন যেমন করছে।
বিশে জানুয়ারির এই পত্রিকা গুলোর রিপোর্ট দেখুন।
পচিশে জানুয়ারীর Washington post এর রিপোর্টটি দেখুন যেখানে বলা হচ্ছে চীনের প্রেসিডেন্ট সকল কে সতর্ক করছেন যে এই ভাইরাস দ্রত ছড়িয়ে পড়তে পারে।
সুতরাং তথ্য প্রমানের ভিত্তিতে স্পষ্ট ভাবে প্রমানিত হয় মার্চে Toronto sun ও The globe and mail এ করোনা ভাইরাস সনাক্ত হবার চল্লিশ দিন পর চীন জরুরী পদক্ষেপ নিয়েছিলো এই দাবি সম্পূর্ন ভুল।
সত্যিকার অর্থে করোনা মোকাবেলায় চীন এর পদক্ষেপ গুলো মূলত খুবই দ্রুত ছিলো।দশদিনে হাসপাতাল তৈরি,চিকিৎসা সেবায় রোবটের ব্যবহার,অনলাইন বিনিময় ব্যবস্থা সহ অনেক গুলো পদক্ষেপ ছিলো খুবই চৌকশ।চীনের স্বচ্ছতার জন্য WHO প্রথম থেকেই চীনের প্রশংসা করে আসছে।
৩০ শে জানুয়ারির একটি বিবৃতিতে, ডাব্লুএইচওর মহাপরিচালক কর্তৃক আহ্বায়ক জরুরী কমিটি লিখেছিল, “কমিটি চীনা সরকারের অত্যন্ত উচ্চ স্তরের নেতৃত্ব এবং রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি, স্বচ্ছতার প্রতি তাদের প্রতিশ্রুতি, এবং তদন্ত ও অন্তর্ভুক্ত অনুসন্ধানের জন্য করা প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানাচ্ছে। চীন দ্রুত ভাইরাস সনাক্ত করেছে এবং তার ক্রম ভাগ করেছে, যাতে অন্যান্য দেশগুলি দ্রুত এটি নির্ণয় করতে পারে এবং নিজেদের রক্ষা করতে পারে”
একই দিন কয়েকটি সিরিজের টুইটে, ডাব্লুএইচএওর মহাপরিচালক  লিখেছিলেন, “মহামারীর শুরুতেই চীনের প্রতিরক্ষার ব্যাপারে যে দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখানো হয়েছে সেটি একটি রোল মডেল হিসাবে বিবেচিত হবে”।
কিন্তু সব চেয়ে মজার বিষয় হল চীন যখন বহির্বিশ্বকে সতর্ক করার সাথে সাথে তার নিজের দেশে করোনা মোকাবেলায় লক ডাউন সহ কঠোর পদক্ষেপ নিতে থাকে তখন এই পশ্চিমা সংবাদ মাধ্যম গুলো প্রচার করে চীন সরকার জনগনের প্রতি অত্যাচার করছে ও মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে,কিন্তু ঐ সংবাদ মাধ্যম গুলোই এখন সম্পূর্ন নিড়ব যখন ইউরোপের বিভিন্ন দেশে সেই সকল চীনা পদক্ষেপ গুলোই নেয়া হচ্ছে।এইখানে পশ্চিমা সংবাদ মাধ্যম গুলোর ডাবল স্ট্যান্ডার্ট আরো স্পষ্ট। ফেব্রুয়ারীর দুই তারিখে The Guardian এ প্রকাশিত প্রতিবেদনটি দেখুন।
এইবার আসা যাক আরেকটি প্রসঙ্গে ইউরোপে করোনা ছড়িয়ে দেবার পেছনে চীনের তথ্য গোপন বা দেরিতে তথ্য প্রদান দায়ী নাকি ইউরোপের দেশ গুলোর অব্যবস্থাপনা সহ চিকিৎসা সেবাকে ব্যাক্তিমালিকানাধীন রাখা,অধিক চিকিৎসা ব্যায় এই সব বিষয় গুলো দায়ী সেই বিষয় গুলো আলোচনার দাবী রাখে। কীভাবে 1.3 বিলিয়ন মানুষের দেশ চায়না মৃতের সংখ্যা 4678 জনের মধ্যে রাখে আর কীভাবে সতর্ক হবার দীর্ঘ সময় পেয়ে পরাশক্তি আমেরিকার যুক্তরাষ্ট্রে মৃতের সংখ্যা অর্ধ লক্ষের কাছাকাছি চলে যায়,তা যদি স্পষ্ট ভাবে বুঝতে না পারেন তাহলে ঘটনাপ্রবাহের পেছনের কারন গুলো আপনার কাছে অধরাই থাকবে।ইউরোপ জুড়ে করোনায় এত মৃত্যুর পেছনে দায়ী কি চীন নাকি ইউরোপের বিভিন্ন দেশের সরকার গুলো সেটা বোঝার জন্য আমরা কিছু তুলনায় যাবো।একই সময় করোনার বিষয়টি জানার পর ইউরোপের বিভিন্ন দেশের সরকারের পদক্ষেপ গুলোর সাথে করোনায় মোকাবেলায় সফল এশিয়ার দুইটি দেশ দক্ষিন কোরিয়া ও ভিয়েতনাম এর পদক্ষেপ গুলো তুলনা করলেই বিষয়টা পরিষ্কার হবে।
আমেরিকা ও কোরিয়া উভয় দেশই ২০ শে জানুয়ারির পর থেকে COVID-19 সম্পর্কিত WHO এর রিপোর্ট বিষয়ে নিশ্চিত জেনে আসছিলো। তখন থেকে ধরে মার্চ পর্যন্ত  , দক্ষিণ কোরিয়া প্রায় 10,200 আক্রান্ত এবং 192 জন মৃত্যুর খবর দিয়েছে। এরই মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে 367,000 এরও বেশি আক্রান্ত হয়েছে এবং 10,900 জন মারা গেছে। উভয় দেশের মধ্যে জনসংখ্যার পার্থক্যের জন্য সংক্রমন ও মৃত্যু সংখ্যার মাত্রা, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে ৫..6 গুণ এবং মৃত্যুর 9.5 বার রিপোর্ট করা হয়েছে।
এই তাৎপর্যপূর্ণ পার্থক্যগুলি সম্পূর্ণভাবে COVID-19-এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে দুই দেশের গ্রহণ করা ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতির কারণেই ঘটেছিলো।
উদাহরণস্বরূপ, মার্চের মাঝামাঝি পর্যন্ত, দক্ষিণ কোরিয়া COVID-19-র জন্য 290,000-রও বেশি লোককে পরীক্ষা করেছে, যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কেবল 60000 পরীক্ষা করেছে। জনসংখ্যার পার্থক্যের বিষয়টা মাথায় রেখে হিসাব করলে  , দক্ষিণ কোরিয়া যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় ৩১ গুণ বেশি পরীক্ষা চালিয়েছে। Nation এর রিপোর্ট অনুসারে, “ কোরিয়াতে পরীক্ষা সারা দেশের ড্রাইভ-ইন সেন্টারে পরিচালিত হয়েছিল,  স্বাস্থসেবা বিনামূল্যে প্রদানের ব্যবস্থা ছিল। রোগ সনাক্তের ফলাফল  ই-মেইলে ছয় থেকে 12 ঘন্টার মধ্যে দেয়া হচ্ছিলো।এই রিপোর্টটিতে দক্ষিন কোরিয়া ও আমেরিকার করোনা মোকাবেলার ক্ষেত্রে উভয়ের পদক্ষেপ গুলোর তুলনামূলক বিশ্লেষন করে দেখানো হয়েছে কেন কোরিয়া আমেরিকার থেকে করোনা মোকাবেলা বহুগুন বেশি সফল।
তদুপরি, দক্ষিণ কোরিয়ানদের মাস্ক পরতে উৎসাহিত করা হয়েছিল এবং তারা সহজেই গুরুত্ব উপলব্ধি করতে পেরেছিল। সেই সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মাস্ক এর  ব্যাপক সংকট ছিল, এমনকি সামনের সারির স্বাস্থ্যসেবা কর্মীরা নিজেদের ব্যবহারের জন্য মাস্ক  এর সংকটে পড়ে। সাম্প্রতিক সময়ে আমেরিকা ঘটায় আরেক ঘটনা।  চীন ও অন্যান্য দেশ থেকে আসা আক্রান্ত দেশের উদ্দেশ্যে তৈরি মাস্কগুলির প্রয়োজনীয় চালান নিজ দেশে নিয়ে আসার চেষ্টা করে এবং নির্মাতাদের কানাডা সহ অন্যত্র প্রেরণ বন্ধ করতে বলে।
আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র, বা ইতালি, ফ্রান্স, স্পেন এবং অন্যান্য বিভিন্ন দেশের তুলনায় দক্ষিণ কোরিয়া একমাত্র উদাহরণ নয় যে দেশটি করোনা মোকাবেলায় ভাল পারফর্ম করেছে। উদাহরণস্বরূপ, 95 মিলিয়নেরও বেশি জনসংখ্যার সাথে ভিয়েতনামে COVID-19 এ আক্রান্ত হয়ে নিহত হবার সংখ্যা শূন্য।  কমিউনিস্ট দেশটিতে কীভাবে করোনাকে কুপোকাত করা হয়েছে সেটা বিস্তারিত জানতে এই লিঙ্কটি দেখুন।
তাহলে এই প্রশ্ন উঠা কি স্বাভাবিক নয় যেইখানে চীন,কোরিয়া,ভিয়েতনাম,কিউবার মত দেশ গুলো করোনা মোকাবেলায়  সফল সেইখানে আমেরিকা,ইংল্যান্ড,এর মত উন্নত পুজিবাদী দেশ গুলো বিফল কেন?
এইটা কি চীনের দোষ নাকি তাদের ব্যক্তিস্বাধীনতার জলে সমস্ত পাপ ধোয়া পুজিবাদের অভ্যন্তরীন অব্যবস্থাপনা?
চীনকে দোষারোপ করার বিষয়টিও কিন্তু অনেক মজাদার।আপনাদের যদি কারো বদরাগী গার্লফ্রেন্ড থাকে তাহলে খেয়াল করবেন,আপনি যদি আপনার গার্লফ্রেন্ড কে বলেন “তোমাকে আজ খুব সুন্দর লাগছে” সে বলে বসবে তারমানে কি আগে সুন্দর ছিলাম না?আপনি যাই বলেন না কেন সে কথায় প্যাচ ধরবেই।পশ্চিমা সংবাদ মাধ্যমের কলামিস্টদের চীনের সাথে আচরন অনেকটাই সেই বদরাগী বান্ধবীর মত।
কয়েকটা নমুনা দেখানো যাক।
1/চীন সরকার যখন  লকডাউন ঘোষনা করেনি, তখন সেটার  কারণ হল তারা মহামারী নিয়ে যুদ্ধ করার চেয়ে তাদের ভাবমূর্তির প্রতি যত্নশীল ছিল।তারা নাকি ভেবেছিলো এতে তাদের সম্মান হানি হবে।
লিংকটি দেখুন,সেই মিথ্যুক টরেন্টো সান এর প্রতিবেদন।
 আবার যখন তারা লকডাউন কার্যকর করেছিল, তখন এটি মহামারীবিরোধী লড়াইয়ের জন্য করে নাই়, বরং আরও শক্তির জন্য সর্বগ্রাসী পদক্ষেপ ছিলো এইটা।এই লকডাউন ছিলো মানবাধিকার লঙ্ঘনের নতুন মাত্রা।
 মিথ্যুক টরেন্টো সানের জিমন্যাস্টিক পল্টি মারার লিঙ্কটি দেখুন।
2/চীন যখন প্রতিদিন শত শত মৃত্যুর খবর দিচ্ছিল, তখন প্রমাণ ছিল যে সংখ্যাটি কতটা ভয়ানক ছিল আর এ কারণে তাদের সরকার করোনা মোকাবেলায় কতটা অক্ষম ছিল।
 মৃত্যুর সংখ্যা যখন হ্রাস পেয়েছে, তখন প্রমাণ হল তারা সংখ্যা সম্পর্কে মিথ্যা মিথ্যা রটাচ্ছে।
2/যখন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা চিনের মহামারী পরিচালনা সম্পর্কে পরোক্ষ ভাবে সমালোচনা করে কিছু বলে, তখন চীনকে নাকি কঠোর শাস্তি দেওয়া উচিত।
 আবার যখন WHO কোনও ইতিবাচক কথা বলে,তখন নাকি এটাই প্রমাণ  হয় যে WHO কে  চীন কিনেই ফেলেছে।
3/চীন যখন অন্য দেশে সহায়তা প্রেরণ করতে পেরে উঠে নাই
 তখন চীন নিষ্ঠুর।আবার যখন তারা সহায়তা প্রেরণ করতে পারলো, তখন এই সহায়তার পেছনে নাকি তাদের রাজনৈতিক ফন্দিটাই বড়।
4/চীনের নাগরিকরা সরকার সম্পর্কে যখন অভিযোগ করে, তখন বুঝতে হবে চীনের সমাজতন্ত্র পতনের পথে আবার যখন চীনা নাগরিকরা সরকারের প্রশংসা করেন, তারা প্রমাণ দেয় যে তারা বাধ্য হয়েছে বা তাদের ব্রেইন ওয়াশ হয়ে গেছে।
মানে চীন যাই করুক না কেন,সেটাকে খারাপ প্রমান করার পন্ডশ্রম পশ্চিমা সংবাদ মাধ্যম গুলো করবেই।কিন্তু অনুসন্ধিৎসু দৃষ্টি নিয়ে সংবাদ মাধ্যম গুলোর তথ্য বিভ্রাট,অর্ধ সত্য উল্লেখ,ভিত্তিহীন অভিযোগ এর মাত্রা বিবেচনায় আনলেই কলামিস্টদের পেশাদারিত্বের প্রতি প্রশ্ন উঠবেই।
এছাড়াও আমরা যদি বাস্তবতার কথা চিন্তা করি আমরা দেখবো ইউরোপ জুড়ে থাকা রাষ্ট্র গুলো করোনা মোকাবেলায় পদক্ষেপ গুলো ছিলো খুবই শিথিল।নিজের দেশের মহামারী মোকাবেলার দূর্বল ব্যবস্থাপনা ও সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়ার অভাবে সৃষ্ট সমস্যার দায় চীনের কাঁধে দিয়ে নিজেদের ব্যার্থতা ঢাকার বিফল চেষ্টা করছে আমেরিকা ও ইংল্যান্ড।
দোষটা যে আমেরিকার অব্যবস্থাপনার সেটার স্পষ্ট প্রমান বের হয়েছে খোদ আমেরিকার ঘরের ভেতর থেকেই। আমেরিকান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন জার্নালে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে যে “প্রথম দিকের কয়েক সপ্তাহে টেস্ট কিটের অপ্রতুলতা সহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশাসনের সমন্বয়হীনতাই পরিস্থিতির খারাপ হবার কারন’
“প্রাথমিক পর্যায়ে, কোভিড -১৯ এটি সনাক্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাই ছিলো না,”
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে রোগের নিয়ন্ত্রণের প্রাথমিক কেন্দ্রগুলি (সিডিসি) পরীক্ষার কিটগুলির অপর্যাপ্ততা কোভিড -১৯ ছড়িয়ে পরার কারন তৈরি করেছিল, নতুন করোনভাইরাস দ্বারা সৃষ্ট এই রোগ নিয়ন্ত্রনে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের ব্যবস্থা ছিলো চোখে পড়ার মত।ক্যালিফোর্নিয়ায় করোনা দেরীতে সনাক্ত হবার কারনে এটি অনেক স্টেটে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।ব্যক্তি স্বাধীনতায় চূড়ান্ত পর্যায়ের অন্ধ বিশ্বাসী হবার কারনে ক্যালিফোর্নিয়ার প্রথম করোনা আক্রান্ত ভদ্রমহিলা নিজেকে টেস্টই করাই নি,যখন সেইখানে টেস্ট এর পক্রিয়া চলছিলো,”আমিতো চীনে যাই নি,আমি কেন টেস্ট করবো?” এইটা ছিলো টেস্ট না করানোর কারন,এর এক সপ্তাহ পরে ভদ্রমহিলার শরীরে করোনা ভাইরাস পাওয়া যায়।
রিপোর্টটি দেখুন।
এর পর ছয় সপ্তাহের মধ্যেই পুরো আমেরিকা উলোটপালট করোনা সুনামিতে।পর্দার পিছনে ছয় সপ্তাহ ধরে, এবং এখন জনসাধারণের মধ্যে ক্রমবর্ধমান ভাবে এইটা স্পষ্ট হচ্ছে যে  ট্রাম্প নিজেই করোনভাইরাস প্রাদুর্ভাবের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য তাঁর প্রশাসনের নিজস্ব প্রচেষ্টাকেই ক্ষুন্ন করেছেন।   স্বাস্থ্য ও মানবসেবা সচিব Alex Azar এবং রোগ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের পরিচালক Robert Redfel এর মতো শীর্ষ কর্মকর্তাকে সরকারের বৃহত্তম ভুল সম্পর্কে তাদের স্পষ্ট বক্তব্য দিয়েছেন  “যুক্তরাষ্ট্রে একটি করোনভাইরাস প্রাদুর্ভাব থেকে বেরিয়ে আসার জন্য পর্যাপ্ত পরীক্ষা নিশ্চিত করতে সম্পূর্ন ব্যর্থ”।তবে ট্রাম্প প্রশাসনের অনেক বর্তমান এবং প্রাক্তন কর্মকর্তা বলেছেন যে প্রকৃত পরিচালনার ব্যর্থতা ছিল ট্রাম্পের।এদিকে ফাঁস হয়েছে আরেক ঘটনা,জানুয়ারী মাসে করোনা পরিস্থিতি সম্পর্কে Alex Azar যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট কে ব্রিফিং করতে চান,তখন প্রশাসনিক কর্মকর্তরাই নাকি তাকে ট্রাম্পের সাথে এই সব বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে নিরৎসাহিত করে।
রিপোর্টটি দেখুন https://www.politico.com/news/2020/02/26/coronavirus-cdc-117779
 এইবার নজর দেয়া যাক ইংল্যান্ডের দিকে।গত মার্চ মাসের বৃহস্পতিবারের ইংল্যান্ডের প্রতিটি রাস্তার পাশের বাড়ির চিত্র ছিলো এমন যে মানুষেরা ব্যালকনি আর দরজার পাশে দাড়িয়ে স্বাস্থকর্মীদের উদ্দেশ্যে প্রশংসা বাক্য ছুড়ে দিয়েছে।
কিন্তু নার্স ডাক্তাররা সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেছিলো আমাদের  প্রশংসা দরকার নেই,দরকার আরো অনেক টেস্টিং কিটের,পর্যাপ্ত পরিমান চিকিৎসা সরন্জাম।পর্যাপ্ত পরিমান টেস্টিং এর অভাবে হু হু করে বৃটেনে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে।বৃটিনের উচ্চ পদস্থ একজন স্বাস্থ কর্মকর্তা সতর্ক করেছেন যে ইউরোপের ইংল্যান্ডের অবস্থা সব থেকে মারাত্মক হতে পারে যদি সিস্টেমেটিক ক্রুটি গুলো দূর করা না হয়।
the new york times এর রিপোর্টটি দেখুন
রাজনীতিবিদরা এখন স্বাস্থ্যসেবা কর্মীদের জন্য ব্যক্তিগত সুরক্ষামূলক সরঞ্জামের ব্যবস্থা না করতে পারায় জনরোষের মুখে পড়েছেন।বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে সরকার ডাব্লুএইচওর পরামর্শ মেনে চললে এই পরিস্থিতি এড়ানো যেত। ইংল্যান্ডের জনস্বাস্থ্যের প্রাক্তন আঞ্চলিক পরিচালক প্রফেসর জন অ্যাশটন বলেছেন, “সরকার কাজ করতে অত্যন্ত ধীর ছিল, করোনভাইরাসকে তারা অগ্রাধিকার এর সাথে যথাযথ মনোযোগ দেয়নি এবং কিছু উল্লেখযোগ্য ভুল করেছে,”  ইংল্যান্ডের জনস্বাস্থ্যের প্রাক্তন আঞ্চলিক পরিচালক প্রফেসর জন অ্যাশটন বলেছেন “সরকার এটিকে খুব খারাপভাবে পরিচালনা করেছে”।
the time এর প্রতিবেদনটি দেখুন
মহামারীবিদ ও প্রাক্তন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞগন বলেছেন যে কোভিট-19 এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য যুক্তরাজ্যের কৌশলটি অসামন্জস্য পূর্ন হয়ে পড়েছিল — যার ফলে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও পরীক্ষার ডিভাইস কেনার ক্ষেত্রে বিলম্ব হয়েছিল, জনস্বাস্থ্য চর্চা সম্পর্কে ভুল তথ্য বিস্তার এর পাশাপাশি সামাজিক দূরত্ব এবং অন্যান্য বিধিনিষেধ বাস্তবায়নে তার প্রতিবেশীদের চেয়ে অনেক পিছনে ছিল যুক্তরাজ্য। এটিই সম্ভবত ভাইরাসটি দ্রুত এবং সনাক্ত করা যায়নি।
অ্যাশটনের মতে ব্রিটেনের প্রথম ভুল সেই সময়টিতেই ঘটেছিল যখন জানুয়ারীতে ইংল্যান্ড করোনভাইরাসটি সম্পর্কে প্রথম নিশ্চিত হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন তার জরুরি বিষয়ক স্বাস্থ্য সচিব ম্যাট হ্যানককে রেখে সরকারের জরুরি  কমিটির সভায় সভাপতিত্বে অনুপস্থিত ছিলেন।  এসটন বলেন “যেহেতু বরিস জনসন ফেব্রুয়ারির শুরুতে সভাটির সভাপতিত্ব করেননি, তাই সরকারের পক্ষে ফেব্রুয়ারীতেই মহামারী মোকাবেলার যথেষ্ট ব্যবস্থা আছে কিনা সেইটার তদারকি করাটা দেরী হয় যায়,যেটার ফলস্রুতিতে পরববর্তী সংকট বৃদ্ধি পায়।
“জনসনের মার্চ মাসের শুরু না হওয়া পর্যন্ত পদক্ষেপ না নেওয়ার সিদ্ধান্তটি “আশ্চর্য” ছিল যা পরীক্ষা কিট সহ গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য সরঞ্জামের ঘাটতির অন্যতম কারন বলেছেন লন্ডন স্কুল অফ হাইজিয়ানের এপিডেমিওলজিস্ট ডক্টর লিয়াম স্মিথ “। তিনি বলেছেন, ভুলটি হ’ল যে সরকার তাদের কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় দুর্লভ সরঞ্জামাদি অর্জন করার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ  ব্যবস্থা না করে ব্রিটেনের বিজ্ঞানী ও ডাক্তারদের উপর অত্যধিক আস্থা রেখেছিল।
ইউরোপের অন্যান্য দেশ গুলোতে করোনা ছড়িয়ে পড়া এবং মহামারীর বিপদ ঘনীভুত হবার বিষয়টিতেও চীনকে দোষারোপ করার কোন ভিত্তি নাই।বরং ইউরোপ থেকেই পৃথিবীর অন্যান্য দেশে বেশি করোনা ছড়িয়েছে।যদি বাংলাদেশের কথাও ধরেন সেখানেও বাংলাদেশে করোনা আক্রান্ত রোগী প্রথম এসেছে সেই ইতালি থেকেই।চীন করোনার উৎপত্তি স্থল হতে পারে কিন্তু বিশ্বব্যাপী করোনার ছড়িয়ে পড়া মূলত হয়েছে ইউরোপ থেকে আসা মানুষের ট্রান্জিসনের ফলে।মঙ্গোলিয়াতে প্রথম যে করোনা রোগী সনাক্ত হয় তিনিও ফ্রান্স থেকে ফিরেছেন।
 ইউরোপ থেকে আক্রান্ত ব্যক্তিদের দ্বারা সারা বিশ্বে  সংক্রমন ছড়িয়ে পড়ছে এইখানে চীনের ভূমিকা কতটুকু?   দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম করোনাভাইরাস কেসগুলি বিমানযোগে  উত্তর ইতালি থেকেই আসে।
 দক্ষিণ আমেরিকার প্রথম কেসটি হ’ল একজন ব্রাজিলিয়ান যিনি ইতালির লম্বার্ডি অঞ্চলে ভ্রমণ করেছিলেন । পানামাতে করোনার কেসটাও স্পেন থেকে থেকে এসেছে।
 করোনভাভাইরাস নিয়ে নাইজেরিয়ার প্রথম অভিজ্ঞতা ছিল একজন ইতালিয়ান ব্যবসায়িক ভ্রমণকারী।
জর্ডানের বেলাতেও করোনার উৎস সেই ইতালি।
কোভিড -১৯ ইতিমধ্যেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে পঙ্গু করে দিয়েছে এবং বিশ্বের অনেক দেশকে বিধ্বস্ত করেছে, রাজনীতিকরা এর ক্ষতির জন্য দায়ী করছে চীনকে। অবশ্যই ভাইরাসটি চীনে শুরু হয়েছিল, তবে কীভাবে এটি আন্চলিক মহামারী থেকে বিশ্বব্যাপী মহামারীতে রূপান্তরিত হয়েছে তার বিবরণ দিতে গেলে বারবার নাম উঠে আসবে ইউরোপের দেশ গুলির।
ইউরোপীয় দেশগুলি এশীয় দেশগুলির তুলনায় অনেক বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে এবং অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় ভাইরাসটি উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি ছড়িয়েছে।পাঁচটি মহাদেশ জুড়ে কমপক্ষে 93 টি দেশে প্রথম করোনাভাইরাস মামলার সূচনা ইউরোপ থেকে। চীন থেকে ভ্রমণের ফলে করোনা ছড়িয়েছে মাত্র 27 টি দেশে যেইখানে় কেবল ইতালি থেকে ভ্রমণের মাধ্যমে করোনা ছড়িয়েছে 46 টি দেশে।তারপরেও মহামারীর বিশ্বব্যাপী ছড়ানোর জন্য দায়ী নাকি চীন!ইউরোপীয় ভ্রমণ করোনভাইরাস ছড়িয়ে দেওয়ার অন্যতম কারণ হ’ল এই দেশগুলি বিমান যোগাযোগ বন্ধ করতে দেরি করেছিল। ইন্দোনেশিয়া ১ March ই মার্চ মিলানের মূল বিমানবন্দরের একটি টার্মিনাল বন্ধ করে দিয়েছে, সেইখনে  লম্বার্ডির উত্তরাঞ্চলে ইতিমধ্যে দশ মিলিয়ন লোকের জনসংখ্যায় ৩ 3,760 টি করোনা কেস ছিল।
বিপরীতে, 23 শে জানুয়ারী চীন হুবেই প্রদেশের বাইরে ফ্লাইট বন্ধ করেছিল, যখন বিশ্বব্যাপী 58 মিলিয়ন জনসংখ্যার মধ্যে বিশ্বব্যাপী 500 টি করোনা কেস এবং হুবাইতে 17 জন মারা যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
লন্ডনের হিথ্রো এবং প্যারিসের চার্লস ডি গল বিমানবন্দরগুলি এখনও দু’টি শহরেই করোনায় সংক্রান্তের সংখ্যা
উত্থানের পরেও খোলা রয়েছে।
মিডিয়া ভাইরাসটির সংক্রমণের প্রসারণকারী হিসাবে ইউরোপের ভূমিকার দিকে তুলনামূলকভাবে খুব কম মনোযোগ দিয়েছে সেটা দিনের আলোর মত পরিষ্কার এখন।মজার একটি  উদাহরণ দেখুন, নিউইয়র্ক টাইমসের একটি জনপ্রিয় ডেটা গ্রাফিক, ভাইরাসটির ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি চিহ্নিত করে তথ্য দিত,যখন ওরা খেয়াল করলো করোনা বিশ্বব্যাপী চাইনিদের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে না তখন তার ঐ গ্রাফটি দেখানোই বন্ধ করে দেয়।
 এইটা খুব সহজেই বোঝা যায়, চীনের নবম সর্বাধিক জনবহুল শহর ওহান শহরে এই প্রাদুর্ভাব শুরু হয়েছিল এবং চীনা কর্তৃপক্ষ তার বিপজ্জনক বিস্তারকে খুব শীঘ্রই নিয়ন্ত্রনে এনেছে। চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান এবং হংকং ব্যাপক পরীক্ষা, সুনিয়ন্ত্রিত অনুসন্ধান এবং কঠোরভাবে লকডাউন ব্যবস্থার সমন্বয়ে তাদের করোনভাইরাস বৃদ্ধির হারকে স্থিতিশীল করেছে।সেইভাবে কাজ না করার কারণেই, ইউরোপীয় দেশগুলিতে সংক্রমণ খুব শীঘ্রই বেড়েছে। চীনের ধ্বংসযজ্ঞ এবং তার প্রতিবেশীদের দ্রুত প্রতিক্রিয়া নিজেদের চর্মচোখে দেখেও ইউরোপের হুস হয় নি।ইউরোপের এই ব্যর্থতার বলি হতে হবে নাকি চীনকে!
প্রশ্ন উঠা স্বাভাবিক!ইউরোপীয় দেশগুলি কি এশীয় দেশগুলির কাছ থেকে পরামর্শ চেয়েছিল?
এই বিষয়ে একবাক্যে না সূচক জবাব দেন ফ্রান্সের বোর্দোর এইডস ও হেপাটাইটিস সম্পর্কিত গবেষণা সংস্থা এজেন্সির পরিচালক । “আমরা এশীয় দেশগুলির প্রতিক্রিয়া দেখেছি, কিন্তু আমরা তখন ভাবিনি যে ঐ দেশ গুলির মত অবস্থা আমাদেরও হতে পারে ” তিনি আরও যোগ করেন, ইউরোপীয় জনস্বাস্থ্য অফিসারলা 2003 সালে সার্স  মহামারীটির পরে করোনভাইরাস সম্পর্কে তাদের প্রতিক্রিয়াগুলির মডেলিং করছিলেন, যা এশিয়াতে স্থানীয়ভাবে বেশি ছিল,কিন্তু ইউরোপ সেটিকে সঠিক ভাবে করোনা মোকাবেলায় কাজে লাগাতে পারে নি।অনেক পূর্ব এশিয়ার দেশগুলি সার্স এর পরে তাদের স্ক্রিনিং এবং যোগাযোগের সক্ষমতা তৈরি করেছিল, যদিও দক্ষিণ কোরিয়া 2015 সালে সার্স প্রাদুর্ভাবের অভিজ্ঞতা থেকে এর মূল শিক্ষা পেয়েছিল, যখন পরীক্ষার কিট উৎপাদন কম ছিলো,কোরিয়াকে তখন বেশ ভুগতে হয়েছে। যার কারণে, দক্ষিণ কোরিয়া কোভিড -১৯ প্রাদুর্ভাবকে দ্রুত এবং ব্যাপক পরীক্ষার মাধ্যমে মোকাবেলা করতে প্রস্তুত ছিল। 2015 সালের পরে, তারা জনস্বাস্থ্য সংকট বা সংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাবের দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আইনটি পরিবর্তন করেছে, যাতে তারা আরও বেশি দ্রুত নতুন ডায়াগনস্টিক পরীক্ষাগুলি অনুমোদন করতে এবং স্থাপন করতে পারে। ইতালি, ফ্রান্স, স্পেন এবং আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র সকলেই পরীক্ষা-নিরীক্ষা সঠিক ও অধিক সংখ্যায় করতে ব্যর্থ হয়েছিল।
তবে আমার মতে ইউরোপ ও আমেরিকার জন্য সব থেকে লজ্জাজনক চিত্রটি হচ্ছে চীনকে নিয়ে হাজারটা সমালোচনা করলেও এই সংকটে তাদের নিজেদের মধ্যে বিদ্যমান আপাত সুন্দর সৌহার্দপূর্ন সম্পর্কের আড়ালের চাপা পরে থাকা স্বার্থান্বেষী রূপটি প্রকাশিত হয়েছে।সংক্রমনে ইতালির অবস্থা যখন ভীষন নাজুক তখন ফ্রান্স ও ইতালীর কাছে সরন্জাম চেয়ে সেটা পায় নি ইতালি।ইউরোপিয় ইউনিয়ন করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় ফান্ড গঠন করতে চাইলেও সেখানে ভেটো দিয়েছে জার্মানি,ন্যাদারল্যান্ড,ফিনল্যান্ড,অস্ট্রিয়া,স্পেন।ইতালির যখন বিধ্বস্থ পরিস্থিতি তখন ইতালিতে ম্যাডিকেল সরন্জাম,টেস্টিং কিট,চিকিৎসক দল পাঠায় কমিউনিস্ট দেশ কিউবা।এর পর সেই ইতালির সাহায্যে এগিয়ে আসলো কে?
ইউরোপ আমেরিকার চোখের বালি সেই গনপ্রজাতন্ত্রী নয়া চীন।
2/https://www.google.com/url?q=https://www.aljazeera.com/news/2020/03/china-sends-eসssential-coronavirus-supplies-italy-200313195241031.html&sa=U&ved=2ahUKEwjS-JOCn4LpAhXt4jgGHVH9DSgQFjAAegQIBBAB&usg=AOvVaw0F6HobzVQuqSRcBT6wTmv9
কথায় আছে ছাগলের তিন নাম্বার বাচ্চা লাফায় বেশি।ভেতরে ভীতু বাইরে সাহসী ভাব নেয়া অনেককেই দেখবেন আসল বিপদের মুখোমুখি হলে ওদের জামার নিচে বেলুন দিয়ে পেশী ফোলানো ফটাস হয়ে যায়।এইবার বুঝাচ্ছি ভারতীয় প্রপাগান্ডার কথা।সার্ভে করে পাওয়া যায় 67 % ভারতীয় করোনার জন্য চীনকে দোষারোপ করছে।এদের মধ্যেই  একটা অংশ মনে করে গোমূত্র হল কোভিড 19 নিরাময়ের ঔষধ।ভারতের পার্লামেন্টে মার্চের বিশ তারিখে আয়ুস মন্ত্রনালয় জানায় হোমিওপ্যাথি,আয়ুর্বেদ,ইউনানী,যোগ সাধনা দিয়েই তারা করোনা ঠেকিয়ে দিবে।
GOVERNMENT OF INDIA MINISTRY OF AYURVEDA, YOGA & NATUROPATHY, UNANI, SIDDHA AND HOMOEOPATHY (AYUSH) LOK SABHA STARRED QUESTION No. 382 TO BE ANSWERED ON 20THMARCH, 2020 MANAGEMENT OF NOVEL CORONA VIRUS *382. SHRI L.S. TEJASVI SURYA:
SHRI UTTAM KUMAR REDDY NALAMADA:
Will the Minister of AYURVEDA, YOGA AND NATUROPATHY, UNANI, SIDDHA AND HOMOEOPATHY (AYUSH) be pleased to state:
(a) whether the Government is taking steps to find antidotes to COVID-19 (Novel Corona Virus) in AYUSH, if so, the details thereof including funds allocated;
(b) whether the Government has issued an advisory advocating the use of Unani and Homoeopathy medicines for prevention and management of the disease and if so, the details thereof;
(c) the details of the research that this advisory was based on;
(d) whether any other country has issued advisory prescribing alternate systems of medicines to prevent, treat or manage the disease and if so, the details thereof;
(e) whether the Government has taken any steps to prevent spreading of misinformation about COVID-19 and if so, the details thereof; and (f) whether the Government has set up permanent AYUSH research labs to develop solutions to any future pandemics or epidemic and if so, the details thereof
চিন্তা করে দেখেন অবস্থাটা।সারা ভারত জুড়ে করোনা মোকাবেলায় গোবর ও গোমুত্র খাওয়ার কেম্পেইনে ছিলো এই বিজিপি কর্মীরাই।
সমগ্র ভারতে করোনায় নিয়ন্ত্রনে ব্যর্থ হয়ে এইবার ভারতীয় কতৃপক্ষ দোষ দেয়া শুরু করেছে চীন থেকে আসা টেস্টিং কিট গুলোর উপর।টেস্টিং কিট গুলো নিম্ন মানের হবার কারনেই নাকি ভারত করোনা নিয়ন্ত্রন করতে পারছে না।
এই দিকে কল্পনাকে বাস্তবে রূপ দেয়ার জন্য বা করোনাকে জীবানু অস্ত্র প্রমান করা এবং চীনের কারনে সারা পৃথিবীতে করোনা ছড়িয়েছে এই দাবি করে চীনের বিরুদ্ধে The united nations of human rights এ মামলা করতে যায় The international council of jurists এবং All India Bar Association.কিন্তু উনাদের কপাল খারাপ,তারা অভিযোগ পেশই করতে পারে নি,The united nations of human rights তাদের মামলা গ্রহনই করে নি।
এইবার আসা যাক চীনের বিরুদ্ধে করা আরেকটি অভিযোগের ব্যাপারে।চীন কেন পুনরায় উহানের ওয়েট মারকেটটি পুনরায় খুলে দিলো?এখান থেকে যে কোন সময় পুনরায়তো ভাইরাস ছড়াতে পারে।
আচ্ছা যারা এই অভিযোগটি করছে তারা কি একবারও ভেবে দেখেছে যে চীনের পক্ষ থেকে বাজারটি পুনরায় খোলার বিষয়ে চীনের যুক্তি গুলো কি?
চীনের ভিজা মার্কেটটি প্রধানত সব্জির মারকেট।সেইখানে চায়নার কালচার অনুযায়ী কিছু পশু বেঁচাকেনা হয়।বহু মানুষের বিশেষ করে কৃষকদের জীবন জীবিকা ঐ বাজারটির সাথে জড়িত।এই রকম মারকেট শুধু চীনে নয়,এশিয়ার বহুস্থানে আছে।আর মারকেট খুলে দিলেও বন্যপ্রানী কেনা বেচা সেখানে এখন সম্পূর্ন রূপে নিষিদ্ধ করা হয়েছে,যেইটাকেই কারন হিসাবে ধারনা করা হচ্ছিলো ভাইরাস সংক্রমনের বিষয়টি।আর বিশ্ব স্বাস্থ সংস্থা নিজেও চায় না ঐ মারকেটটি বন্ধ হোক,WHO এর পরামর্শ হলো মারকেটটিকে সরকারী রেগুলেশনের মধ্যে আনা হোক,কারন ঐ বাজারটি একেবারে বন্ধ করে দিলে বিশাল সংখ্যক মানুষের খাদ্য সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাবে।
WHO এর মতামত নিচের লিঙ্কে দেখুন।
কিন্তু বিষয়টি  হল WHO নিরপেক্ষতার জায়গা থেকে যাই বলুক না কেন,পশ্চিমা মিডিয়া এইটা তার ক্ষমতার শেষ WATT দিয়ে চেষ্টা করছে WHO বহু আগেই চীনের কাছে বিক্রি হয়ে গেছে।
তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষন করে যেই বিষয়টা স্পষ্ট ভাবে প্রমান হয় সেটি হল চীনকে কনোভাবেই করোনা মহামারী ছড়িয়ে দেবার দায় দেয়া যাবে না।ভারত,বাংলাদেশ,ইউরোপের দেশ গুলো ও আমেরিকার যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে করোনার প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়ার মূল কারন গুলো হল:
1/পুজিবাদ প্রভাবিত সামাজিক দায়বদ্ধতাহীন  ব্যক্তিস্বাধীনতা।যার কারনে আমেরিকার জনগন সবার মঙ্গলের কথা চিন্তা না করে লক ডাউন বয়কট করে ব্যানার ফেস্টুন নিয়ে রাস্তায় মিছিলে নেমে আসে।যার কারনে ফ্রান্সে প্রথম করোনা আক্রান্ত নারীটি “আমি চীনে যাই নি” সাফাই দিয়ে করোনা টেস্ট করাতে অস্বীকার করে।তৃতীয় বিশ্বের দেশ গুলোর তাবলিক বা জানাজায় অংশগ্রহনকারী ধর্মান্ধ মোল্লাগোষ্ঠির সাথে ঐ সব ব্যক্তি স্বাধীনতাবাদীদের কোন পার্থক্য দেখি না আমি।
2/ পুজিবাদী দেশ গুলোর স্বাস্থকাঠামোর অভ্যন্তরীন ভঙ্গুর দশা।
3/পুজিবাদী দেশ গুলোর রাজনৈতিক নেতৃত্ব সংকট।ট্রাম্প,জনসন,মত লোকদের দিয়ে ব্যবসা চালানো যায় কিন্তু জনকল্যানে রাষ্ট্র পরিচালনা তাদের দিয়ে সম্ভব না।
4/অর্থনৈতিক মডেল হিসাবে পুজিবাদের নিজস্ব দূর্বলতা।
এইটা এখন জলের মত পরিষ্কার যে সাম্প্রতিক করোনার এই সংকটকালীন সময়ে যুক্তরাষ্ট্র যথাযথভাবে সাড়া দিতে পারেনি। করোনার কারণে বৈশ্বিক রাজনীতিতে সৃষ্ট পরিস্থিতিকে ‘সুয়েজ মোমেন্ট’ হিসেবে বর্ণনা করা যায়। মার্কিন সাময়িকী ফরেন পলিসির প্রতিবেদনে, ১৯৫৬ সালের পরিস্থিতির সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির তুলনাটি বেশ স্পষ্টভাবেই ধরা হয়েছে। বলা হচ্ছে, এটিও তেমনই এক মুহূর্ত। কাহিনী এক,কিন্তু অভিনেতা ভিন্ন।
১৯৯০-এর দশকের শুরুতে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের মধ্য দিয়ে সারা বিশ্বে নিজের রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এই বৈশ্বিক মহামারিতে মার্কিনীদের দুর্বলতা প্রকাশ করে দিয়েছে। একইভাবে নতুন দিকনির্দেশক হিসেবে সামনে চলে আসছে চীনে। যুক্তরাষ্ট্রে দুর্যোগময় পরিস্থিতির এ সময়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া বক্তব্য সংশয় ও অনিশ্চয়তাই তৈরি করেছে। যেকোনো বড় বিপর্যয়ে সারা বিশ্ব যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের দিকে তাকিয়ে থাকত। সেখানে এখন দেখা যাচ্ছে করোনা মোকাবিলায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তেমন প্রস্তুতিই নেই। ‘পর্যাপ্ত পরীক্ষা করানো হচ্ছে না’ বলে বিক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মার্কিন বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের গভর্নররা। ইউরোপের সঙ্গে সব দরজা বিনা আলোচনায় বন্ধ করে দেওয়া ট্রাম্প প্রশাসন প্রমাণ করে দিয়েছে যে দুর্যোগে ‘একলা চলো’ নীতি তাদেরকে একা করে দিচ্ছ। প্রশ্ন উঠছে যুক্তরাষ্ট্র আদতে তার জনগণের জন্য সংকট মোকাবিলায় কতটা অপ্রস্তুত।
বৈশ্বিক নেতৃত্বের বদলের ধরনটি হচ্ছে, শুরুতে অতি ধীরগতিতে এর বদল শুরু হয়। পরে হঠাৎ করেই দেখা যায় সব ওলট–পালট হয়ে যায়। এত দিন বিশ্বের নেতৃত্ব যে গোষ্ঠীর হাতে ছিল, এখন আর তা নেই। নতুন কোনো নেতার কাছ থেকে আসছে আদেশ, নিষেধ বা দিকনির্দেশনা। এ ধরনের ঘটনা সর্বশেষ দেখা গেছে ১৯৫৬ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর সময়ে। বৈশ্বিক নেতৃত্ব ব্রিটিশ সূর্যের বিভিন্ন অঞ্চলে অস্ত যাওয়ার শুরু তার আগে থেকেই। তবে এর গতি ছিল ধীর। ব্রিটিশদের কাছ থেকে চলে যাওয়ার সময় মনে হয়েছিল তারা দয়া করে বিভিন্ন উপনিবেশ যেন ছেড়ে দিচ্ছে। কিন্তু বিষয়টি আদতে এতোটা সরল ছিল না। যা স্পষ্ট হয় ১৯৫৬ সালে সুয়েজে ব্রিটিশদের গা-জোয়ারি হস্তক্ষেপের মাধ্যমে নিজেদের পতন ঘনিয়ে আনার মধ্য দিয়ে।
আজ যখন করোনা মোকাবেলায় ওয়াশিংটন ব্যর্থতায় পর্যদুস্ত, ঠিক তখনই জোর কদমে এগিয়ে এসেছে বেইজিং। যুক্তরাষ্ট্রের ব্যর্থতার ফলে সৃষ্ট শূন্যতা বুঝতেই দিচ্ছে না চীন। চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা থেকে ওয়াশিংটনকে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ আখ্যা দিয়ে নানা পরামর্শ ও সমালোচনামূলক খবর প্রকাশ করা হচ্ছে। সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন দেশকে স্বপ্রণোদিত হয়েই পথ দেখাচ্ছে চীন। বৈশ্বিক মহামারি রুখতে নিজেদের মানচিত্রের গণ্ডি পেরিয়ে সবার হয়ে কথা বলছে ও কাজ করছে দেশটি। চীন যদি শেষ পর্যন্ত এই দুর্যোগ মোকাবিলায় বিশ্বকে নেতৃত্ব দিতে পারে, তবে তা বৈশ্বিক কাঠামোটিই উল্টে দিতে পারে। নেতৃত্বের আসনে নতুন আরোহী হবে চীনই।
ব্যবসা-বাণিজ্যে চীনা মডেল এর সমাজতন্ত্রকে নানা ভাবে সমালোচনা করা হতো। কিন্তু এখন করোনা নিয়ন্ত্রণে চীনের সাফল্যের অন্যতম কারণ হিসেবেও বলা হচ্ছে চীনের মার্ক্সবাদ প্রভাবিত নীতি কেই।এই “মার্ক্সবাদ” শব্দটি এখন সারা বিশ্বের মুক্তিকামী  মানুষের  প্রেরনার উৎস আজ। এটাকে গুরুত্ব দেওয়ার মধ্য দিয়ে চীন নিজেকে সামনে নিয়ে আসছে। তবে এই লড়াইয়ের শেষ খেলাটি রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের হাতেই। এই মহামারি রোধে ওষুধ ও টিকার খোঁজ  দিতে পারলেই চীন হবে বিশ্বের অবিসংবাদিত নেতা।
তবে চূড়ান্ত সমীকরণ যা-ই হোক, চীনকে অস্বীকার করাটা আর বোধহয় সম্ভব হবে না। বরং তার সঙ্গে সহযোগিতার মাধ্যমেই পরবর্তী বিশ্ব কাঠামোটি নির্মিত হবে বলা যায়। তবে এ কথা সত্যি যে, যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেনসহ বিশ্বের নেতৃস্থানীয় দেশগুলোর নেতারা করোনার এই সংকট মোকাবিলায় বিশ্বকে মোটেই নেতৃত্ব দিতে পারেননি। তাদের তরফ থেকে এমন কোন নির্দেশনা পাওয়া যায়নি। যা বিশ্ববাসীকে আশ্বস্ত করতে পারে। এটা বৈশ্বিক রাজনৈতিক নেতৃত্বের পালাবদলের তাগিদ দিচ্ছে ভবিষ্যৎকে। অতীত মহামারির ইতিহাসেও এমন অনেক দৃষ্টান্ত আছে নেতৃত্বের ভূমিকা পালনে ব্যর্থ হয়ে নেতৃত্ব হারিয়েছে। অতীতেরই শিক্ষাও তাই।
যুক্তরাষ্ট্র সময়মতো নিজের অনেক নাগরিকের ‘ভাইরাস টেস্ট’ করাতে পারেনি। পাশাপাশি নিজেও বৈশ্বিক ‘গভর্ন্যান্স-টেস্টে’ এত দিনের অবস্থান হারিয়েছে। দেশটির ডাকে ইউরোপ যুগের পর যুগ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে অপ্রয়োজনীয় যুদ্ধে শরিক হয়েছে। অথচ করোনা হানা দেওয়ামাত্র ওয়াশিংটন কোনো ধরনের মতবিনিময় ছাড়াই ঘনিষ্ঠ মিত্র ইউরোপের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। বাকি বিশ্বের জন্যও কোনো দায় বোধ করতে দেখা যায়নি দেশটিকে। এটি প্রথম বিশ্বযুদ্ধকালে ‘স্প্যানিশ-ফ্লু’র কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। সেই সময়ে অস্ট্রিয়া আর জার্মানি শক্তিমত্তা হারিয়ে নতুন নেতৃত্বের আসনে বসে ব্রিটেন ও ফ্রান্স।

করোনা বিশ্বায়ন ধারণাকে নতুন এক চ্যালেঞ্জের

মুখে ফেলে দিয়েছে। করোনা দেখাতে সক্ষম হয়েছে যে, বর্তমান বিশ্বায়নের ধারণা টেকসই নয়। বিশ্বায়নের কেন্দ্রে ছিল বাণিজ্যিক স্বার্থ। এটি রাজনৈতিক যৌথতা নয় বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। করোনা বিশ্বায়নের অন্ধকার অংশে আলো ফেলেছে। করোনায় আক্রান্ত দেশগুলো যেভাবে নিজ নিজ সীমান্ত নিয়ে সচেতন হয়েছে তাতে স্পষ্ট। বিশ্বায়নের প্রচারণা আর এগোবে না। খোদ ‘ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন’ও এককভাবে এবার কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। উল্টো ইউনিয়নভুক্তরা একে অপরের সঙ্গে সীমান্ত বন্ধ করেছে। পুরো বিশ্বে স্বাস্থ্য সচেতনতার একটা নতুন তরঙ্গ তুলেছে করোনা। বৃষ্টির পরই রংধনু ওঠে এবং রংধনুতে এক-দুটি নয়, থাকে অনেক রং। কিন্তু এই মৃত্যু–বৃষ্টি কবে থামবে, আমরা এখনো তা জানি না। আবার কবে মানুষ উদ্বেগহীনভাবে আনন্দে অপরকে জড়িয়ে ধরবে?কবে মাস্ক খুলে মুক্ত বাতাসে শ্বাস নেবে সেটিই দেখার বিষয়। তবে নিশ্চিত যে মানুষ আবারও ঘুরে দাঁড়াবে নতুনভাবে,দাড় করাবে নতুন এক ধরনের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা।যেই ব্যবস্থায় সামাজিক দায়বদ্ধতা থাকবে,একে অপরের পাশে দাড়াবে,স্বার্থপর ব্যক্তিস্বাধীনতার উপর ভিত্তি করে অভিজাত কোন শ্রেনী থাকবে না,এক সৌহার্দপূর্ন সহযোগিতার বন্ধনে মানবজাতি অটুট বন্ধন গড়ে তুলবে।নতুন এক উৎপাদন সম্পর্কের ভিত্তিতে নতুন মানুষেরা তৈরি করবে নতুন এক বিশ্ব।
তথ্যসূত্র:
লেখক: কমরেড রাজিবুর রহমান
(মার্ক্সিস্ট অনলাইন একটিভিস্ট)

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *